default-image

একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির (প্ল্যাজারিজম) অভিযোগে পদাবনতি হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান সংবাদ সম্মেলন করার এক দিন পর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি অভিযোগ করে লিখেছেন, তাঁকে ধ্বংস করতে প্রতিশোধপরায়ণ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন উচ্চপদস্থ ক্ষমতাধর নারী। তবে তিনি ওই নারীর নাম উল্লেখ করেননি।

নিজের স্বীকৃত বা ভেরিফায়েড ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে সামিয়া রহমান লিখেছেন ওই ক্ষমতাধর নারীর নামটি তাঁর বক্তব্যে, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অথবা সংবাদ সম্মেলনে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, দুই সহ–উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষের পদে পুরুষ শিক্ষকেরা রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৩টি অনুষদের একটির ডিন একজন নারী শিক্ষক।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে সামিয়া রহমান লিখেছেন, ‘তিনি (ক্ষমতাধর নারী) এখন ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে গতকাল সাংবাদিকদের ডেকে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য উসকাচ্ছেন। বলছেন যেকোনোভাবে সামিয়াকে ধ্বংস করে দিতে হবে। যেকোনো নিউজ দিয়ে, তা মিথ্যা হোক আর যা–ই হোক।’

সামিয়া আরও লেখেন, ‘সাংবাদিকদের কাছেই শুনলাম, যাঁদের তিনি ফোন দিয়েছিলেন। বললেন, মিথ্যা সত্যের ধার ধারি না, যেকোনো মূল্যে সামিয়াকে শেষ করতে হবে। যেকোনো নিউজ করতে হবে সামিয়ার বিরুদ্ধে। প্রয়োজন হলে আমার সকল আর্টিকেলকে প্ল্যাজারিজম বলে প্রমাণ করতে হবে। কারণ পদ, ক্ষমতা তাঁর হাতে, তিনি যদি বলেন তবে এগুলো জনগণ মেনে নেবে। সাংবাদিকেরা বললে জনগণ মেনে নেবে। যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেওয়া হবে না। সামিয়ার এত বড় সাহস আমাদের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স করে! এবার আমি তাকে শেষ মারটা দেব।’

সামিয়া রহমান আরও লেখেন, ‘উনার এত ক্ষোভ, এত আক্রোশ কেন আমার বিরুদ্ধে? ...অ্যালেক্স মার্টিনের মিথ্যা চিঠির ষড়যন্ত্রের কি তিনিই তাহলে হোতা? প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমাকে শেষ মার দেবার চেষ্টা?...যার নিজের বিরুদ্ধে প্ল্যাজারিজমের অভিযোগ আসে, তাঁর ক্ষমতার ভয়ে ২/৩টি বাদে আর কোনো মিডিয়া সাহস পায় না তাঁর বিরুদ্ধে কাভারেজ করার, যিনি নিজে প্ল্যাজারিজমের সঙ্গে যুক্ত, অন্তত ৫/৬টি আর্টিকেলে, তিনি আবার কীভাবে অন্যকে নৈতিকতার কথা বলেন?’

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক প্রভাষক মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘আ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: আ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নিজস্ব জার্নাল সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউয়ে প্রকাশিত হয়। তাতে দুজনের বিরুদ্ধে প্ল্যাজারিজমের অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় তদন্ত হয় এবং তাঁদের শাস্তি দিতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল দুজনের একটি করে ইনক্রিমেন্ট বাতিলের শাস্তি প্রস্তাব করলেও ‘সার্বিক দিক বিবেচনায়’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এই প্রস্তাব নাকচ করে দুজনকে পদাবনতি দিয়েছে। এর মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনি পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আর শাস্তি পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান এখন শিক্ষা ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে আছেন। ছুটি শেষে ফেরার পর তিনি পদোন্নতি পেয়ে যেতেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে আরও দুই বছর প্রভাষক পদে চাকরি করতে হবে।

এই শাস্তি নিয়ে সামিয়া রহমান গত সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন