default-image

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় এক দিনে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল চার স্কুলছাত্রী। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে এসব বিয়ে বন্ধ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান। চারটি বাল্যবিবাহের ঘটনায় মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের একটি গ্রামের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৬) বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে জেনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার একটি এলাকায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর, রাত আটটার দিকে খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৩) এবং রাত ১০টার দিকে রতনকান্দি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৪) বিবাহ বন্ধ করা হয়।

চারটি বাল্যবিবাহে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে এক কনের বাবাকে ১৫ হাজার এবং অন্য তিন কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি একটি বাল্যবিবাহের ঘটনায় বরের বাবাকেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হয়। প্রত্যেক কনের বাবার কাছ থেকে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দেবেন না বলে মুচলেকা নেওয়া হয়। বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

আজ শনিবার সকালে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সামাজিক সচেতনতার কারণে গোপনেও বাল্যবিবাহ দিতে পারছেন না অনেকে। প্রশাসন খবর পেয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবারের মা-বাবা সচেতন হলে এসব বাল্যবিবাহ রোধ করা আরও সহজ হবে। উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন