বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেয়ের নাম রেখেছেন রাওনাফ ইররাম প্রত্যুষা। বয়স এখন চার মাস। মেয়েকে ঘিরেই তাঁদের আনন্দের দিনযাপন।

আবদুল মোতালেবের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের প্রকৌশলী তিনি। স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কর্মস্থলে। কোনো স্বজন সেখানে নেই। তাই মোতালেবকে এক হাতে সামাল দিতে হয়েছিল সেই দিনগুলো। কী ঘটেছিল তখন?

জুন মাস। কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় জ্বরে আক্রান্ত হন মোতালেব। পরীক্ষা করে দেখা যায় কোভিড .নেগেটিভ। জুনের শেষ সপ্তাহে ২৩ বছর বয়সী হাসনারও জ্বর এল। কিন্তু স্বামীর নেগেটিভ হওয়ায় অন্য জ্বর ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। অনাগত সন্তানের কথা ভেবে ওষুধও সেভাবে খেতে পারেননি। কিন্তু ২৮ জুন সকাল থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকে শ্বাসকষ্ট বাড়ছিল। তখন স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে। ভর্তি হন আগ্রাবাদের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে।

হাসনার মুখে শোনা যাক, ‘হাসপাতালে প্রথমে ১৫ লিটার অক্সিজেন দেওয়া হলো। পরদিন কোভিড পজিটিভ আসে। তখন ভয় পেয়ে যাই। অনাগত সন্তানটির কথা মনে হচ্ছিল বারবার। একপর্যায়ে হাইফ্লো মাস্ক দিয়ে ৬০ লিটার অক্সিজেন দেওয়া হয়। আইসিইউতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল আমার। ১ জুলাই প্রসবব্যথা ওঠে। চিকিৎসক ও নার্সরা আইসিইউতে আমার প্রসব করালেন। মেয়ের মুখটা দেখে করোনার শ্বাসকষ্টের মধ্যেও আমার বুকটা আনন্দে ভরে উঠেছিল।’

চিকিৎসক হিসেবে সেদিন হাসনার পাশে ছিলেন মা ও শিশু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম রেজা। সে সময়ের কথা স্মরণ করলেন তিনি, ‘অনেক জটিল অবস্থা ছিল ওই নারীর। অস্ত্রোপচার করা সম্ভব ছিল না। কারণ, বেশি শ্বাসকষ্ট। শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয়েছিল। নবজাতক ও মা বেঁচে যান। তবে মায়ের মনোবল ভালো ছিল।’

প্রত্যুষাকে নিয়ে এখনো মিরসরাইয়ে থাকেন মোতালেব-হাসনা দম্পতি। মেয়ের মুখে মা-বাবা ডাক শোনার অপেক্ষায় তাঁরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন