default-image

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে বিহারি ক্যাম্পে ১০ জন নিহতের বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। তিনি বলেছেন, এটা একটা দুর্ঘটনা।

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটা ইনফরমেশন আসে। আগুন লাগা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সকালের দিকে।’ তবে, তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি কী উদ্যোগ নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিকট শব্দে পটকা ফোটার খবর তিনি পেয়েছিলেন।


কালশীতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক পরিবারের সাতজনের মৃত্যু ও সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ ইন্ধন দিয়ে থাকলে বা উস্কানি দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন ঘোষণা দিলেও, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগুন নানাভাবেই লাগতে পারে। ঘিঞ্জি এলাকা।

‘তদন্তের আগে এ বিষয়ে কিছু বলব না’—সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার তিনি এমন কথা বলার পরও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেভাবে আতশবাজি পটকা ফুটেছে সেখান থেকে আগুন লেগে যেতে পারে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের জয়েন্ট কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে এরই মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস মোল্লার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত লোকজনের স্বজনেরা। এ ছাড়া নিহত ১০ জনের মধ্যে আজাদ নামে এক ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘরে ঘরে গিয়ে স্তব্ধ করতে হবে?
শবে বরাতের রাতে পটকা ও আতশবাজি ফোটানোর নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও পল্লবীতে এত পটকা আতশবাজি কীভাবে ফোটে, পুলিশ কেন আগে ব্যবস্থা নেয়নি—এমন সব প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ রেগে যান। তিনি বলেন, ‘আমরা আহ্বান জানিয়েছি। এখন কি ঘরে ঘরে ঘরে গিয়ে স্তব্ধ করতে হবে? পটকা ফোটানো আতশবাজি পোড়ানো ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যতার সঙ্গে যায় না।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার এ সময় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পটকা-আতশবাজি পোড়ানোর ঘটনা অনেক কম হয়েছে বলে দাবি করেন।

রাজধানীর পল্লবীর কালশীতে আজ ভোর থেকে বিহারিদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বিহারিদের কয়েকটি ঘরে আগুন দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহত লোকজনের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0