default-image

নাটোরের লালপুরের শহীদ মমতাজ উদ্দিন স্টেডিয়াম কাশবনে ভরে গেছে। দীর্ঘদিন এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলা না হওয়ায় পুরো মাঠ ও প্রবেশপথ কাশফুলে ছেয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার ওই স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। বৃষ্টিতে ভিজে তালায় মরিচা ধরেছে। ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, প্রায় পুরো মাঠ কাশবনে ঢাকা পড়েছে। প্রধান ফটক থেকে প্যাভিলিয়নের ফটক পর্যন্ত ২০০ ফুট রাস্তাজুড়ে রাশি রাশি কাশফুল। ঘন কাশফুলে আড়াল হয়ে গেছে স্টেডিয়াম ভবনের নামফলকও। স্টেডিয়ামের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে গ্যালারির বাইরের সব স্থানে ছয়-সাত ফুট উঁচু ঘন কাশবন। দর্শক গ্যালারিতে স্থানীয় কৃষকেরা ভেজা পাট শুকাচ্ছেন। পাটের উৎকট গন্ধে বেশিক্ষণ থাকা গেল না।
এ সময় কথা হয় নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ঠাট্টা করে বললেন, ‘আমি হলাম নিধিরাম সর্দার। চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি, বেতনও পাচ্ছি না। এর পরও সারা বছর এই বিশাল স্টেডিয়াম আমি একাই পাহারা দিচ্ছি। দুই বছর ধরে এখানে কেউ আসেন না। তবু দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য পড়ি আছি। মাঝে মধ্যে আমি নিজেই মাঠের মধ্যকার কাশবন পরিষ্কার করি। কয় দিন যেতে না যেতেই আবার ভরে ওঠে। এই কাশবনের খড় বিক্রি করে প্রতিবছর দুই থেকে তিন হাজার টাকা আয় হয়।’
লালপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৈদ্যনাথপুর এলাকায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের পাঁচ একর জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর বিএনপি সরকারের তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন করেন। জমির মূল্য বাদে এ স্টেডিয়াম নির্মাণে সে সময় ব্যয় হয়েছিল দুই কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ টাকা। তবে জমির মূল্য ধরলে এর ব্যয় চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। তবে ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখে শহীদ মমতাজ উদ্দিন স্টেডিয়াম। তখনকার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার নতুন নামের ফলক উন্মোচন করেন। এর মধ্যেই স্টেডিয়ামের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর প্রথম দু-এক বছর ঘরোয়াভাবে খেলাধুলা হয়েছে। জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানও এখানে হতো। পরে আনন্দমেলার নামে মাসব্যাপী যাত্রা ও সার্কাসের জন্য স্টেডিয়ামটি ব্যবহার করা হয়। এরপর ২০১২ সালে শহীদ মমতাজ উদ্দিন স্মৃতি ফুটবল কাপ খেলা হয়। এর পর থেকে সব সময়ই স্টেডিয়াম ফটকে তালা লাগানো থাকে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এখন স্টেডিয়ামটি কাশবনে পরিণত হয়েছে।
স্টেডিয়ামসংলগ্ন বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী বলেন, স্টেডিয়াম সবার জন্য খোলা থাকলে কাশফুল জন্মানোর সুযোগ থাকত না। তাঁরা ফুটবল খেলার জায়গা না পেয়ে এখন স্টেডিয়ামের পেছনে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের মাঠে খেলাধুলা করেন।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশফাকুল হোসেন জানান, সংস্কারের অভাবে স্টেডিয়ামটি খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সংস্থার নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় এখানে কোনো খেলা পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0