সভাপতির বক্তব্যে এথিক্স অ্যাডভান্স টেকলোনজি লিমিটেডের (ইএটিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান বলেন, আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনশক্তি। আর এই জনশক্তির মূলভিত্তি হচ্ছে উন্নত শিক্ষা ও দক্ষতা। সব দেশেই বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয় শিক্ষা খাতে। শিক্ষিত জনশক্তি তৈরির জন্য আমাদের দরকার ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা। এডুটিউব একটি পূর্ণাঙ্গ ইলেক্ট্রনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যা অনলাইন, ব্লেন্ডেড ও প্রচলিত সব মাধ্যমেই কার্যকর সফটওয়্যার। এই প্রতিযোগিতা তাই ব্লেন্ডেড লার্নিংকেই সম্প্রসারিত করবে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি এম. টেম্বন বলেন, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ আয়োজন দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় একটি সুযোগ। এডুটিউব কুইজ প্রতিযোগিতার এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিতে সাহায্য করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম এখন ব্যস্ত মোবাইল ফোনে। এর ভালো দিকগুলো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। শুধু ক্লাসের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। প্রযুক্তিমাধ্যম ব্যবহার করে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হবে। এই কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভালো কিছু করতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. মশিউর রহমান বলেন, এ কুইজ প্রতিযোগিতায় শহরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষার্থীদেরও অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই আয়োজকদের বেশি সজাগ থাকতে হবে। কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নলেজ শেয়ারিংয়ের একটি ব্যবস্থা রাখা উচিত। শিক্ষার্থীরা যাতে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারে আয়োজকদের। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই আয়োজন সফল হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনেসকোর তথ্য অনুসারে, কোভিড-১৯-এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৫০টির বেশি দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বাংলাদেশে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ৬১ সপ্তাহ বন্ধ ছিল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক শেখার ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। স্কুল খোলা থাকলে শিক্ষার্থীরা ইন্টারেক্টিভভাবে শিখতে পারে এবং খেলাধুলার মতো বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে সক্রিয় থাকতে পারে। বিশ্বজুড়ে স্কুল বন্ধের দীর্ঘসূত্রতা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং বৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে। মহামারি মোকাবিলা ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত জীবন গঠনের জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন অপরিহার্য। সেই ধারণা থেকেই ইএটিএলের উদ্যোগ এডুটিউব কুইজ কনটেস্ট ২০২২।

এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য একটি শিক্ষা-সামাজিক আন্দোলন তৈরির মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসা। কিশোররা যেন মুঠোফোন এবং ইন্টারনেটের নেতিবাচক অংশ থেকে দূরে সরে এসে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং গঠনমূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এডুটিউব কুইজ প্রতিযোগিতায় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা মুঠোফোন অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অংশ নিতে পারবে। দেশের বিভিন্ন উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শেষে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। রেজিস্ট্রেশন করা যাবে এই লিংকে

এডুটিউব কুইজ প্রতিযোগিতার নলেজ পার্টনার বিশ্বব্যাংক। টেকনোলজি পার্টনার হুয়াওয়ে। স্ট্র্যাটেজি পার্টনার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ছাড়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন