বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: ব্যাগটি কোথায় পেয়েছিলেন?

বাবু: ট্রাক চালিয়ে নাটোরে যাচ্ছিলাম। গাজীপুর চৌরাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাগটি পাই। একটি মোটরসাইকেল স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) পার হওয়ার সময় ঝাঁকি খেয়ে ব্যাগটি পড়ে গিয়েছিল। আমার হেলপার (চালকের সহকারী) রমজান আলী গিয়ে ব্যাগটি নিয়ে আসে।

প্রথম আলো: কেন ব্যাগটি তুলে আনালেন?

বাবু: মালিককে ফিরিয়ে দিতে। মোটরসাইকেলটি চলে গিয়েছিল। আমি মালিকের সন্ধান করেছিলাম। কাউকে ব্যাগ খুঁজতে দেখিনি। পরে চিন্তা করলাম, ব্যাগটি থানায় জমা দেওয়া দরকার।

প্রথম আলো: সেটা যে টাকার ব্যাগ, তা কখন বুঝলেন?

বাবু: ব্যাগটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন আমার হেলপার খুলে দেখে যে তাতে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোটের অনেকগুলো বান্ডিল।

প্রথম আলো: এত টাকা দেখে আপনার কেমন লেগেছিল?

বাবু: এত টাকা দেখে আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। টাকার মালিকের জন্য কষ্টও হচ্ছিল। ভাবছিলাম, এতগুলো টাকা হারিয়ে মালিক হয়তো কান্নাকাটি শুরু করেছেন।

প্রথম আলো: তারপর কী করলেন?

বাবু: প্রথমে আমি ট্রাকের মালিককে ঘটনাটি জানাই। পরে তাঁকে সঙ্গে করে নাটোর সদর থানায় গিয়ে সবকিছু খুলে বলি। থানার ওসি নাছিম উদ্দিন সাহেব (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আমাকে ঘটনাটি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানাতে বলেন। আমরা ওই নম্বরে ফোন করি। সেখান থেকে টাকার মালিককে খুঁজে বের করার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং সদর থানায় যোগাযোগ রাখতে বলা হয়।

প্রথম আলো: টাকার মালিক গাজীপুরের কাপাসিয়ার লিটন মিয়া। তাঁর সন্ধান আপনি কীভাবে পেলেন?

বাবু: পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করেছে। পুলিশের কাছ থেকে মুঠোফোন নম্বর নিয়ে আমি নিজেই তাঁকে ফোন করি। তিনি নাটোর সদর থানায় ছুটে আসেন।

প্রথম আলো: লিটন মিয়া আপনাকে কী বলেছিলেন?

বাবু: তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাচ্ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি ২৫ লাখ টাকা পেলে তো নিজেই ট্রাকের মালিক হয়ে যেতে পারবেন। আপনি কেন আমাকে টাকার সন্ধান দিচ্ছেন?’ আমি তখন তাঁকে নাটোর থানায় আসতে বলি। তিনি গাজীপুরের পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নাটোরে আসেন।

প্রথম আলো: আপনিই কি মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দিয়েছিলেন?

বাবু: হ্যাঁ। আমিই নিজ হাতে টাকার ব্যাগটি তাঁর হাতে তুলে দিই। এ সময় আমার ট্রাকের মালিক মো. শাহনেওয়াজ ও সদর থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম আলো: টাকা ফিরে পাওয়ার পর মালিক আপনাকে কী বলেছিলেন?

বাবু: তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। বলেছিলেন, টাকাগুলো ফেরত না পেলে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।

প্রথম আলো: আপনাকে নিয়ে কিছু বলেননি?

বাবু: আমাকে তিনি বলেছিলেন, আমি নাকি মহৎ মানুষ। আমার মতো সৎ মানুষ আছে বলেই নাকি দুনিয়া টিকে আছে।

প্রথম আলো: টাকার জন্য মানুষ নানা রকম প্রতারণার আশ্রয় নেয়। আপনি কুড়িয়ে পেয়েও ফেরত দিলেন!

বাবু: টাকাগুলো আমি কেন ভোগ করব? সেগুলো তো আমার নয়।

প্রথম আলো: শুনেছি ব্যাগের মালিক আপনাকে ৩০ হাজার টাকা উপহার দিতে চেয়েছিলেন। আপনি নেননি।

বাবু: ২৫ লাখ টাকাই যখন ফেরত দিলাম, তখন ৩০ হাজার টাকা কেন নেব?

প্রথম আলো: ট্রাক চালিয়ে কত টাকা আয় হয়?

বাবু: বেতন দিনে ৬০০ টাকা।

প্রথম আলো: পরিবারে কে কে আছেন?

বাবু: মা, বাবা ও স্ত্রী। এক বছর আগে বিয়ে করেছি।

প্রথম আলো: আপনার মা, বাবা ও স্ত্রী এই টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনার পর কী বলেছেন?

বাবু: টাকা ফেরত দেওয়ার সময় আব্বা নিজেই উপস্থিত ছিলেন। সবাই খুব গর্বিত। আশপাশের লোকজন যখন আমার সুনাম করে, তখন তাঁরা খুশি হন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন