কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কারও অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, ভবনের প্রতিটি ফ্লোর ৩৫ হাজার বর্গফুটের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসেম ফুডের ছয়তলা ভবনের নিচতলায় কার্টন তৈরির কারখানা। সেখানে মেশিনারিজ কার্টনে ভরা ছিল। কারখানার দুইতলায় টোস্ট তৈরি হতো। তিনতলায় কোমল পানীয় উৎপাদন করা হয়। আর চারতলায় ললিপপ, নসিলা, চকলেট ও লাচ্চি সেমাই তৈরি হয়। পাঁচতলায় ভোজ্যতেল রাখা ছিল। আর ছয়তলায় ছিল কার্টনের গুদাম ঘর। প্রতিটি তলা নেট দিয়ে আলাদা করা ছিল। ভবনটি কারখান কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করত। প্রচুর মালামালের কারণে আগুন দ্রুত পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শ্রমিকেরা বের হতে পারেননি।

ওই কারখানার শ্রমিক আমেনা আক্তারের (নিখোঁজ) স্বামী রাজীব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্ত্রী মুঠোফোনে বলেন, ‘কারখানায় আগুন লেগেছে। পুরো কারখানার দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আমরা কেউ বের হতে পারছি না।’ এর পর থেকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কারখানাটিতে প্লাস্টিক, কাগজ ও রাসায়নিক উপাদান ছিল। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের

১৮টি ইউনিটের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, বিশাল আয়তনের ভবনে সিঁড়ি ছিল মাত্র দুটি। আগুন লাগলে মূল সিঁড়ি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। ভবনের আয়তন অনুযায়ী চার–পাঁচটি সিঁড়ি থাকা প্রয়োজন ছিল। ভবনের একতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত মালামালে ভর্তি ছিল। ভবনের প্রতি তলায় নেট ব্যবহার করা হয়েছে, এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে পানি দিলেও তা সব জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে আগুন নেভাতে দেরি হয়েছে। ভবনের জরুরি বহির্গমনের সিঁড়ি বেশি থাকলে এই প্রাণহানি হতো না।

শিল্প পুলিশ জানায়, ওই কারখানার মোট ১ হাজার ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে ওই দিন ভবনে ওভারটাইমে কাজ করছিলেন ১৫০–২০০ শ্রমিক।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, আইনকানুন মেনে ভবন তৈরি করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ–ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল না।