বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল লাইটেনিং ডিটেকশন নেটওয়ার্কের প্রতিদিনের উপাত্ত বিশ্লেষণের ফল সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
২০১৬ সালে সরকার বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। সেমিনারে বলা হয়, ২০১১ সাল থেকে গেল ১১ বছরে বজ্রপাতে ২ হাজার ৮০০ মানুষ মারা গেছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩২৯ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে মার্চ থেকে জুন—এই ৪ মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৭৭ জনের।

দেশে বজ্রপাতে প্রাণহাণি বাড়ছে জানিয়ে সেমিনারে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় ১ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত সময়ে। এর মধ্যে মে মাসে সর্বোচ্চ (২৮ শতাংশ)। আর সবচেয়ে কম বজ্রপাত হয় জানুয়ারিতে (শূন্য দশমিক শূন্য দুই শতাংশ)। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রামে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে। তবে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সিরাজগঞ্জকে।

বজ্রপাতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মুঠোফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি, অত্যধিক জনঘনত্ব ও বজ্রপাত মৌসুমে মাঠঘাটে ও জলাশয়ে বেশি মানুষ থাকার কথা বলা হচ্ছে। তবে বজ্রপাত ও প্রাণহানি বৃদ্ধির অকাট্য প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামোভিত্তিক সমাধানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর দিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের অধ্যাপক আশরাফ দেওয়ান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সুলতানা শফী বলেন, বজ্রপাতের সময় বাসায় থাকা নিরাপদ। তবে ধাতব কিছু না ধরা, ভেজা অবস্থায় না থাকা ভালো।

সভাপতির বক্তব্যে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুসহ ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, বৃক্ষরোপণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, ভবনের নকশার ওপর আরও জোর দিতে হবে।

সেমিনারে পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান, কৃষক প্রতিনিধি ইব্রাহীম মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন