default-image

গত কৃষিবছরের তুলনায় এবার দেশে ১০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল কম উৎপাদিত হয়েছে। এ জন্য বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও অতিবৃষ্টিকে দায়ী করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ থেকে গত শনিবার প্রকাশ করা ‘বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড গ্রেইন আপডেট-ফেব্রুয়ারি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, চলতি কৃষিবছরে দেশে মোট চাল উৎপাদিত হয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। কৃষিবছর হিসেবে সংস্থাটি মে থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময়কে ধরে থাকে।

প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর সংস্থাটি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের দানাদার খাদ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। এই ঘাটতি আমরা আমদানি করে পূরণের চেষ্টা করছি। তবে আশা করি বোরোতে আমাদের উৎপাদন ভালো হলে সামনের বছর আর আমদানি করতে হবে না।’

ইউএসডিএর প্রতিবেদনেও এমন আভাসই মিলেছে। বলা হয়েছে, এ কৃষিবছরের শীতকাল ধানের উৎপাদন ভালো হওয়ার মতো অনুকূল ছিল। কম শৈত্যপ্রবাহ এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা, যা ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। এ সময়টা বোরোর মৌসুম।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের বেশির ভাগ এলাকা থেকে আমন ধান কাটা হয়ে গেছে। চলতি কৃষিবছরে উৎপাদন কম হওয়ায় দেশে ধান ও চালের দাম বেশি। আর দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক বোরো মৌসুমে বেশি বিনিয়োগ করেছেন। ধান চাষের এলাকাও বেড়েছে। ফলে এবার বোরোতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত বছর বোরোতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি এক লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বোরো ধান কাটা হয় মে–জুন মাসে। চলতি বোরো মৌসুমের সম্ভাব্য চাল উৎপাদনের হিসাব ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের সরকারি–বেসরকারি সব খাতে চালের উৎপাদন ও ভোগ নিয়ে যেসব তথ্য দেওয়া হয়, তার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ, একেক সংস্থা উৎপাদনের একেক ধরনের তথ্য দেয়। তাই সব সরকারি, বেসরকারি ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা মিলে দেশের খাদ্য উৎপাদনের একটি একক তথ্যভান্ডার থাকা উচিত। তাহলে দেশে কী পরিমাণ চাল উৎপাদন হলো, আর কী পরিমাণ চাহিদা তার মধ্যে সমন্বয়ের পরিকল্পনাটা ঠিক করা যায়।

মোটা চালের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত কৃষিবছরের তুলনায় বাংলাদেশে মোটা চালের দাম ৪৩ শতাংশ বেশি। মোটা চালের কেজি ৪৬ টাকা এবং মাঝারি ও সরু চাল ৫৬ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। চালের সরকারি মজুদের পরিমাণও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই মজুদ গত কৃষিবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম।

গম উৎপাদন কম হলেও ভুট্টার বেড়েছে
প্রতিবেদনে গমের উৎপাদন নিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে চলতি কৃষিবছরে গমের উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি পূরণে আরও ৬৬ লাখ টন আমদানি করা লাগতে পারে। আর ভুট্টার উৎপাদন এ বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৬ লাখ টন হয়েছে, যা গত কৃষিবছরের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন