বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া ফেরির নাম ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’। বিষয়টি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন রো রো ফেরিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার) দেলোয়ার হোসেন। অবশ্য মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ফেরিটি বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। ফেরিটি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নৌপথের লৌহজং চ্যানেল অতিক্রম করছিল। পদ্মা সেতুর ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের মাঝ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার সামনে এসে পড়ে ফেরিটির। ঘটনার সময় নদীতে ছিল তীব্র স্রোত। ফেরিটি প্রথমে ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। একপর্যায়ে ফেরিটি পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারের সঙ্গে একটু ঘষা খায়। এর বাইরে বড় কোনো কিছু ঘটেনি।

তবে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরির একজন কর্মী প্রথম আলোকে দিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। ওই কর্মী বলেন, সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ফেরির ইঞ্জিনকক্ষের বাইরের অংশ (সাইড প্লেট) ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে দ্রুত ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাটের ২ নম্বর পন্টুনে ভেড়ানো হয়। সেখানে ফেরি থেকে যানবাহন দ্রুত নামিয়ে দেওয়া হয়। ওই কর্মীর ভাষ্য, ঘটনার সময় একটি ট্রাক ছোট একটা গাড়ির ওপরে ছিটকে পড়ে। এতে গাড়িটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ফেরিতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরাও একে অপরের ওপরে উল্টে পড়েন। এতে ১০-১২ জনের মতো আহত হয়েছেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চরজানাজাত নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুল রাজ্জাক রাত ৮টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিমুলিয়ায় যাওয়ার পথে পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারের সঙ্গে ফেরিটির ধাক্কা লাগে। আপাতত আমরা হতাহতের তেমন কোনো খবর পাইনি। আচমকা ধাক্কায় ফেরিতে পড়ে গিয়ে কিছু মানুষ হয়তো টুকটাক আহত হয়েছেন। আর কিছু যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’ পদ্মা সেতুর পিলারের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কাল সকালে জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গত ২৩ জুলাই নির্মাণাধীন সেতুটির ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে ‘শাহ জালাল’ নামের একটি রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে ফেরিটির অন্তত ৩৫ যাত্রী আহত হন। ঘটনার পরপরই ফেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে বরখাস্ত করে বিআইডব্লিউটিসি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন