ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা জাকির হোসেন ১৪ বছর ধরে ঢাকার নিউ মার্কেটে ব্যবসা করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে বছরে দুবার দোকানের বিক্রি শেষ করে ভোরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি রওনা দিতেন। কিন্তু আপনজনের টানে স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর বা কোনো সময় বিকেল হয়ে যেত তার। হতো না পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ পড়া। রাস্তায়ই কোথাও থেমে আদায় করে নিতে হতো ঈদের নামাজ।

কিন্তু এবার জাকির হোসেনের চোখে-মুখে অন্যরকম আনন্দের ঝিলিক। তাঁর মতো অসংখ্য মানুষ ব্যবসায়িক ব্যস্ততা সামলে আপনজনের টানে বাড়ি যেতে পারবেন অল্প সময়েই। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন পরিবারের সবার সঙ্গে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু জাকির হোসেনদের বাড়ি যাওয়ার পথকে সুগম করে দিয়েছে।

‘পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এখন ঢাকা থেকে আমার বাড়ি যেতে লাগবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো। বাড়িতে গিয়েই সবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারব। নামাজ শেষে মা–বাবার কবর জিয়ারত করতে পারব।’ বলতে বলতে সজল হয়ে ওঠা চোখ মুছতে থাকেন জাকির হোসেন। ভেজা চেখেই বলেন, ‘মেয়ের জন্য জামা পছন্দ করে রেখেছি। ভিডিওকলে মেয়েকে দোকানের জামাগুলো দেখিয়েছি। মেয়ে আমার পিংক কালারের জামাটি পছন্দ করেছে। এবার মেয়ের জন্য নিজেই সকাল-সকাল ঈদের নতুন জামা নিয়ে যেতে পারব। পদ্মা সেতু না হলে এমনটা চিন্তাও করতে পারতাম না।’

শুধু জাকির হোসেনের মতো দোকানিরাই নন, কোরবানির ঈদের সময় কসাই ও কোরবানির পশুর মাংস কাটাকুটির কাজ করেন যারা, তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বাড়ে তাদের চাহিদাও। তাই বরিশালের গৌরনদীর আলাউদ্দিন মিয়া প্রতিবার কোরবানির আগে মৌসুমি-কসাইয়ের কাজ করতে চলে আসেন ঢাকায়। এতে কিছুটা বাড়তি আয় হয়, সঙ্গে কোরবানির মাংসও পাওয়া যায়। আলাউদ্দিন মিয়া এবার কোরবানির ঈদে ডাবল খুশি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার কোরবানির ঈদের সারাদিন কসাইয়ের কাজ করার পর পাওয়া মাংস নিয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ির উদ্দেশে দিতাম। রাস্তা ও ফেরিতে জ্যাম থাকার কারণে পরদিন ভোর হয়ে যেত বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে। অনেক সময় মাংস নষ্টও হতে যেত। কিন্তু এবার সেই ভয় নেই।’ স্বস্তির হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে আলাউদ্দিন মিয়ার মুখ। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ভাগ করে খেতে পারবেন কোরবানির মাংস এরচেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? আপনজনের টানে যথাসময়ে বাড়িতে বয়ে নিয়ে যাওয়া স্বপ্নই তো তৈরি করে দেয় এসব আনন্দের উপলক্ষ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন