সকালে সরেজমিন দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের কারও কাঁধে ব্যাগ, কারও কাছে ছিল লাগেজ। অনেকে সময় কাটাতে পত্রিকা পড়ছিলেন। কেউ মুঠোফোনে মগ্ন ছিলেন। বুধবার সকালে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের জন্য প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় বাড়ি যাওয়ার অনুভূতি অন্য রকম। পড়াশোনা, চাকরির জন্য যাঁরা বাড়ি থেকে দূরে থাকেন, তাঁরা এই সময়ের জন্য মুখিয়ে থাকেন। আসলে এই যাত্রার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না।’

প্রায় একই অনুভূতি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, এমনিতে যখন বাড়ি যাওয়া হয়, তখন পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবী সবাই বাড়িতে আসেন। সবার সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎ হয়। সবার মধ্যে আনন্দের আমেজ থাকে। সময়ও ভালো কাটে।

ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ থাকলেও টিকিটের ব্যবস্থাপনায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। এনামুল হক নামে ঢাকার এক যাত্রী বলেন, তিনি অনলাইনে টিকিট কেটেছেন। কিন্তু আজ সকালে স্টেশনের কাউন্টারে গিয়েও তা প্রিন্ট করাতে পারেননি। সার্ভারের সমস্যার কারণে প্রিন্ট দিতে পারেননি কাউন্টারের লোকজন। ট্রেনে কী ঝামেলা হয়, কে জানে!

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঈদযাত্রার প্রথম দিন চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে নির্ধারিত ট্রেনগুলো নির্বিঘ্নে ও সময় অনুযায়ী ছেড়ে গেছে।

অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে ভিড়

অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন আজ বুধবার। এদিন দেওয়া হচ্ছে আগামী ১ মের টিকিট। টিকিটের জন্য স্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এদিন টিকিটপ্রত্যাশীদের সারি স্টেশনের বাইরে চলে যায়। তাঁদের অনেকেই আগের রাতে স্টেশনে চলে এসেছেন।প্রায় সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পর চাঁদপুরের টিকিট পান শিরিন আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, টিকিটের জন্য দুই দিন আসতে হয়েছে। বুধবার ভোররাত চারটায় কাউন্টারে এসেছিলেন। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি। খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তাই পরদিন দিবাগত রাত তিনটায় চলে আসেন। সকাল ১০টার দিকে চারটি টিকিট পেয়েছেন। এখন খুব খুশি তিনি।

ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে নারীদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন আরজু আক্তার। আর দেড় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে স্টেশনে পায়চারি করছিলেন স্বামী মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভোর পাঁচটায় তাঁরা স্টেশনে এসেছেন। ১ মে থেকে ছুটি পেয়েছেন। কিন্তু এদিনের টিকিটের জন্য অত্যধিক ভিড়। আবার অনলাইনে টিকিট পেতে নাকি অনেক ভোগান্তি। তাই সরাসরি কাউন্টারে চলে এসেছেন তাঁরা।

অনলাইনে টিকিট পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির বিষয়টি অবহিত আছেন বলে জানান স্টেশন মাস্টার জাফর আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অগ্রিম টিকিটের জন্য আজকে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে। আর অনলাইনে সবাই একসঙ্গে টিকিটের জন্য ক্লিক করেন, এতে কেউ পান, কেউ পান না।

ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে প্রতিদিন ১০টি আন্তনগর ও চারটি মেইল ট্রেন ছেড়ে যাবে। আর ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত চাঁদপুর রুটে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার যাত্রী ট্রেনে করে চট্টগ্রাম ছাড়বেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন