বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিসাব দেন, এক হাজার কিলোমিটার পথ যেতে পেট্রলচালিত গাড়িতে খরচ হয় ৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। একই দূরত্বে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়িতে খরচ পড়বে ১ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি অনেকটাই সাশ্রয়ী। আর এটি ধোঁয়া তৈরি না করায় পরিবেশেরও দূষণ ঘটায় না।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, দেশে এখন দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২২ হাজার ৬৬ মেগাওয়াট। সেখানে দিনে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ১৩ হাজার ৭৯২ মেগাওয়াট, গত বছর গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। এরই মধ্যে ২১ মার্চ দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়লে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, অন্যদিকে বিদ্যুতের বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতাও কাজে লাগানো যাবে।

বিশ্বে ২০২০ সালে অন্য সব মোটরগাড়ির বিক্রি কমলেও বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ির বিক্রি ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। মোট গাড়ি বিক্রি হয়েছে ৩২ লাখ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসও বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বে মোট গাড়ি বিক্রির ২০ শতাংশ হবে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি। আর ২০৪০ সালে যত গাড়ি বিক্রি হবে, তার সবই হবে এই গাড়ি। যুক্তরাজ্যের জাগুয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরস, ফোর্ড মোটর, জার্মানির ফক্স ভাগেন ও জাপানের টয়োটা মোটর করপোরেশনের মতো বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।

যা আছে খসড়ায়

‘বৈদ্যুতিক যান চার্জিং নির্দেশিকা’ শিরোনামের খসড়ায় বলা হয়েছে, যানবাহন খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির (ডিজেল, পেট্রল) ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, প্রবেশযোগ্য ও সাশ্রয়ী চার্জিং অবকাঠামো স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জিং স্টেশন বসানোর মাধ্যমে চার চাকার যান কেনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

খসড়া অনুযায়ী, চার্জিং অবকাঠামো তৈরি ও বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। চার্জিং স্টেশন দিতে হলে পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ওই এলাকার বিতরণ কোম্পানির কাছে আবেদন করবে। স্রেডা বা বৈধ কোনো কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা তৈরির আগপর্যন্ত আগামী পাঁচ বছর চার্জিং স্টেশনের কারিগরি পরীক্ষা করবে বিতরণ কোম্পানি।

দেশে এরই মধ্যে তিন চাকার বিদ্যুৎ-চালিত যানের ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে। তবে চার চাকার বিদ্যুৎ-চালিত যানের ব্যবহার শুরু হয়নি। পর্যায়ক্রমে অকেজো ঘোষিত গাড়ির বিপরীতে এবং নতুন কেনার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি অগ্রাধিকারে থাকবে। সব বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে চার্জিং অবকাঠামো তৈরি করা হবে। মহাসড়কে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে রাস্তার দুই পাশে স্টেশন করা হবে।

স্রেডার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ-চালিত যান নিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এসব যানের জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। তাই বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চার্জিং স্টেশন স্থাপন, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি নির্দেশনার খসড়া মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে

দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বছরে ৩৫ হাজার প্রাইভেট কার, ৫০ হাজার তিন চাকার যান এবং ১ লাখ ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল উৎপাদন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যুৎ বিভাগের দুজন কর্মকর্তা জানান, দেশে অবৈধভাবে চলা বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি বাড়তে থাকায় দুই বছর আগে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি আমদানি ও চলাচল নিয়ে তৈরি ওই নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়, রিচার্জেবল ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎশক্তির সাহায্যে চালিত মোটরযানই ইলেকট্রিক মোটরযান (বা বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি)। এর ব্যাটারি বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে রিচার্জ করা হয়। খসড়ায় বিদ্যুৎ-চালিত মোটরসাইকেলের জীবনকাল ১০ বছর, তিন চাকার যান ৯ বছর এবং হালকা, মধ্যম ও ভারী যানের জন্য ২০ বছর ধরা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার কথা ভেবেই বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ির দিকে যেতে হবে। এটি অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী। অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিদ্যুৎ-চালিত গণপরিবহন বাড়ানো যেতে পারে। এতে অন্যরাও উৎসাহী হবে। সারা বিশ্ব এদিকে ঝুঁকছে। দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন