এমডিজি অর্জনে ব্র্যাকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

সহস্রাব্দ উন্নয়নের আটটি লক্ষ্যের মধ্যে পাঁচটিতেই বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে। এতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের আওতাধীন মানুষের ৯৫ শতাংশই হতদরিদ্র দশা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
গত মঙ্গলবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৪-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জেন্ডারবৈষম্য দূরীকরণে ব্র্যাকের কার্যক্রম দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয়, দারিদ্র্য বিমোচনে ব্র্যাক ২০০২ সাল থেকে অতি দরিদ্র কর্মসূচি চালু করে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এর ৯৫ শতাংশেরই হতদরিদ্র দশা থেকে উত্তরণ ঘটেছে।
শিক্ষা খাতে এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে ব্র্যাকের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়, ২০১৪ সালে ব্র্যাকের স্কুল থেকে ৪৩ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) অংশ নেয়। এর ৬১ শতাংশেরই বেশি মেয়ে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে ৮৩ শতাংশ শিশু টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছে। আর ৬৪ জেলায় ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকায় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছে ৯১ শতাংশ শিশু। ২০০৭ সালে ব্র্যাকের জরিপ ছিল, রাজধানীর ৮০ শতাংশ প্রসূতি বাড়িতেই সন্তান জন্ম দিতেন। বাকি ২০ ভাগ বিভিন্ন হেলথ কেয়ার সেন্টারের শরণাপন্ন হতেন। এরপর মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে সারা দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্র্যাক ২৭৮টি আরবান ডেলিভারি সেন্টার চালু করে। ২০১০ সাল নাগাদ ওই সব এলাকায় বাড়িতে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার ২৪ শতাংশে নেমে আসে।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মাদ মুসা। এ সময় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালকের উপদেষ্টা মাহবুব হোসেন, প্রধান অর্থবিষয়ক কর্মকর্তা এস এন কৈরীসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ। বিজ্ঞপ্তি।