অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা একটি মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরিন হাসিবসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর বিসমিল্লাহ গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। ১২টি মামলায় মোট ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৬ নম্বর মামলার অভিযোগপত্র গতকাল অনুমোদন করা হয়। এ অভিযোগপত্রে ৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।
৬ নম্বর মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন হয়েছে। এমডি ও চেয়ারম্যান ছাড়া বিসমিল্লাহ গ্রুপের অন্য ছয়জন হলেন এমডির বাবা ও গ্রুপের পরিচালক সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক (কমার্শিয়াল) আবুল হোসাইন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক (কমার্শিয়াল) রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন ও গোলাম মহিউদ্দিন আহম্মেদ।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ছয়জন কর্মকর্তা হলেন ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান, সাবেক উপব্যবস্থাপক জি এম শাহাদাৎ হোসেন, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ রহিম ও মো. তানজিবুল আলম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন সরদার, এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু সালেহ মো. আরিফুর রহমান।
এজাহারভুক্ত দুই আসামি প্রিমিয়ার ব্যাংকের কর্মকর্তা তাবাসসুম তারিক হাসান ও টিডব্লিউ এক্সপ্রেসের মালিক মো. মঈনউদ্দিনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।
তদন্তে বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে বিসমিল্লাহ টাওয়েলস, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স ও আলফা নিট কম্পোজিট টাওয়েলসসহ কয়েকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ব্যাক টু ব্যাক এলসি, রপ্তানি বিল ও ইনল্যান্ড বিল পারচেজের (আইবিপি) মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ঋণের নামে এসব টাকা আত্মসাৎ করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
কৃষি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ: চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমানের নামে-বেনামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কৃষি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে একটি দল কৃষি ব্যাংকের বনানী শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নাসিরুদ্দিন আহমেদ ও আহসান উল্লাহ খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন