বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই ভবনের দারোয়ান মহিউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ভোরে ফজরের আজানের পর র‌্যাব আসে। এরপর দোতলা থেকে এমদাদুলকে নিয়ে যায়। চলতি মাসের ২ তারিখ এমদাদুল বাসায় উঠেছিলেন। নিজেকে প্রিন্টিং প্রেসের মালিক বলে পরিচয় দিতেন। তাঁর সঙ্গে ২৫–৩০ বছরের এক যুবক ছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে তিনি চলে যান। রাতে আরেক যুবক এসেছিলেন। তাঁকেও আজ সকালে আর দেখেননি তিনি। তবে এমদাদুলের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু দেখেননি। আজই তাঁর স্ত্রীকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা ছিল।

৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের খাগডহরে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁরাই এমদাদুল সম্পর্কে তথ্য দেন। এই দলের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এমদাদুল হক জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন ২০০২ সালে। সে কারণে তাঁর চাকরি চলে যায়। শায়খ আবদুর রহমানের কাছ থেকে তিনি বায়াত নেন। পুরোনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সালাউদ্দীন সালেহীনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে তিনি সাংগঠনিক কাজ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানিয়েছে, এমদাদুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭, ২০১২ ও ২০১৫ সালে নাশকতা ও জঙ্গি–সংশ্লিষ্টতার মামলা ছিল। ২০০৭ সালে রফিক মাস্টার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর থেকে তিনি একরকম আত্মগোপনে চলে যান। ২০১২ সালে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তারের পর এমদাদুল দুই বছর জেলও খাটেন। ২০১৬ সালে তিনি জামিনে মুক্তির পর থেকে আবারও সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন। তাঁর অধীনে ৫০ জন অনুসারী আছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ২০০৩ সালে মুক্তাগাছায় ব্র্যাক ব্যাংকে ডাকাতির কথা এমদাদুল র‌্যাবকে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁরা ভার্চ্যুয়াল জগৎকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

র‌্যাব এমদাদুলকে জেএমবির একটি অংশের শীর্ষ নেতা বলছে। এমদাদুলের পক্ষে তাঁর পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীকে পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এমদাদুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন