সরকারের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ কর্মসূচিভুক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি প্রকল্পের প্রধান অনুষঙ্গ ভাসমান টার্মিনাল ও পুনঃ গ্যাসে রূপান্তরকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) ব্যবহারের জন্য ‘টার্ম শিট এগ্রিমেন্ট’ সই হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও ঠিকাদার কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেড পার্টনারশিপের মধ্যে এই চুক্তি হয়েছে। চুক্তিটি সই হওয়ায় এলএনজি আমদানিতে আরেক ধাপ অগ্রগতি হলো।
রাজধানীতে পেট্রো সেন্টারে গতকাল বুধবার বিকেলে সই হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার কোম্পানি আগামী নয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় জরিপ (মেটওশেন স্টাডি) সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেবে। এতে প্রকল্পের ব্যয়সহ সামগ্রিক বিষয় সন্নিবেশিত হবে। সরকার তা অনুমোদন করলে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। এর পরবর্তী ১৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ এবং টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এই ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্প আরও আগে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। দরকারও ছিল। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনভিজ্ঞতার কারণে বিলম্ব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ, পরিচালক (পিএসসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ঠিকাদার কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক স্যাম্পো সুভিসারি বক্তব্য দেন। পরে পেট্রোবাংলার সচিব শফিকুর রহমান ও স্যাম্পো সুভিসারি নিজ নিজ পক্ষে ‘টার্ম শিট এগ্রিমেন্ট’-এ সই করেন।
চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার কোম্পানির নির্মাণ করা অবকাঠামো (এফএসআরইউ) ব্যবহারের জন্য প্রতিবছর পেট্রোবাংলার ব্যয় হবে প্রায় নয় কোটি (৯০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সব ধরনের কর পেট্রোবাংলা পরিশোধ করবে। এর বাইরে পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জিটিসিএল (গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড) মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৮৬ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করবে। এলএনজি আমদানি করা হবে কাতার থেকে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমুখী জ্বালানি ব্যবহারের কৌশল হিসেবে ২০১০ সালে সরকার এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়। তখন লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি শুরু করার। এখন সরকার ২০১৭ সালের গোড়ার দিকে এলএনজি সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোচ্ছে।
২০১১ সালের জানুয়ারিতে কাতার সরকারের সঙ্গে মন্ত্রণালয় একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। তাতে সেখান থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ (বছরে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন) এলএনজি আমদানির কথা রয়েছে। তবে এ জন্য কাতারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে হবে। যখন এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন বিশ্ববাজারে প্রতি ইউনিট (এক হাজার ঘনফুট) গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১৪ ডলার। এখন তা কমে সাত ডলার হয়েছে।
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাসংক্রান্ত বিশেষ আইনের আশ্রয় নেবে। ওই আইনে দরপত্রের মাধ্যমে প্রচলিত সরকারি ক্রয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আগ্রহী কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিধান রয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ক্ষেত্রেও তাই করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন