‘ডিবি পরিচয়ে’ দিনে দুপুরে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি টাকা লুটে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত শনিবার দুপুরে মতিঝিলের একটি ব্যাংক থেকে ১৯ লাখ টাকা তুলে বাসে নারায়ণগঞ্জে ফিরছিলেন ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম। যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড এলাকায় চার-পাঁচজন লোক ডিবি পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়।
বাসে উঠেই তাঁরা নাজমুলকে খুঁজে বের করেন। এরপর তাঁকে (নাজমুলকে) একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অন্য যাত্রীদের জানান। নাজমুলকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। নামতে না চাইলে বাসের ভেতরেই তাঁকে মারধর করেন কথিত ডিবি সদস্যরা। একপর্যায়ে তাঁরা শুধু নাজমুলের টাকার ব্যাগটি নিয়ে বাস থেকে নেমে যান।
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি হচ্ছে বুঝতে পেরে বাসযাত্রীরা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দেন। যাত্রীরা লুৎফর রহমান নামে একজনকে ধরতে পারলেও অন্যরা টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ধরা পড়া লুৎফর দুর্বৃত্তদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির চালক।
পুলিশ জানায়, এরপর উদ্ধার হওয়া মাইক্রোবাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে এর মধ্যে কাফরুল থানার এসআই রফিকুলের পরিচয়পত্রটি পাওয়া যায়। পরে শনিবার গভীর রাতে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ)। তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে ছয়জন জড়িত ছিলেন, ডাকাত দলটির নেতৃত্বে ছিলেন এসআই রফিকুল।
শনিবার রাতেই ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী নাজমুল বাদী হয়ে গ্রেপ্তার এসআই রফিকুল, মাইক্রোবাসচালক লুৎফরসহ ছয়জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার অপর চার আসামি হলেন আকাশ, মোহাম্মদ আলী, পিয়াস ও সাগর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই টি এম এ মজিব বলেন, ছয় আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রোববার তাঁদের আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত এসআই রফিকুলের ১০ দিন ও গাড়িচালক লুৎফরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ফাইভ স্টার ইভেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান তিনি। তাঁদের কাপড় ও ঝুটের ব্যবসাও রয়েছে। শনিবার মতিঝিলের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার সময় বাস আটকে তাঁর টাকার ব্যাগটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নাজমুল বলেন, তিনি কোনো অপরাধে কখনো জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো থানায় মামলা বা জিডি নেই।
পুলিশের মিরপুর বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে আর কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, বা কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0