নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হলে যে আনন্দ তা এখন নেই

default-image

সুমাইয়া মুনতাহিনা, বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
প্রথম পরীক্ষা ভালো হয়েছে। কিন্তু যখন শুনি পরদিন পরীক্ষা হবে না, তখন আর পড়ার আগ্রহ থাকে না। হতাশ হয়ে পড়ি। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হলে যে রকম আনন্দ ও স্বস্তি থাকত, এখন তা নেই। পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়। ফলে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ করব, তাঁরা যেন পরীক্ষার সময় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেন। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। হরতাল–অবরোধের কারণে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। এগুলো না থাকলে দেশের আরও উন্নতি হতো। এগিয়ে যেত।
ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ চাও? এই প্রশ্নের জাবাবে সে বলে, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ থাকবে না। স্কুলে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হবে না।’


পরীক্ষার সময় হরতাল কেন, আমাদের দোষটা কী?

default-image

ফাহিম কুদ্দুস, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়
পরীক্ষার সময়সূচি পেয়ে ঠিকভাবেই এগিয়ে চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু পরীক্ষা আগে সব এলোমেলো। হরতালে পিছিয়ে যাচ্ছে পরীক্ষা। আতঙ্ক আর উদ্বেগ নিয়ে ২ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা দিলাম ৬ ফেব্রুয়ারি। এভাবে তো টানা পরীক্ষা দেওয়া যায় না। পরীক্ষার সময় হরতাল কেন, আমাদের দোষাটা কী?
আমাদের বিদ্যালয়ের শতভাগ পাস করার রেকর্ড আছে। আমরা পরীক্ষা দিচ্ছি জিপিএ-৫ অথবা গোল্ডেন জিপিএ পাওয়ার জন্য। কিন্তু হরতাল-অবরোধ এবং পেট্রলবোমা, ককটেল আমাদের সেই ইচ্ছা পূরণ হতে দিচ্ছে না। পড়ালেখার মনোযোগ ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত করছে। আমরা পরীক্ষার সময় আর হরতাল চাই না।
শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিলেও আতঙ্ক কাটছে না। বিরোধী দলের প্রতি আমাদের অনুরোধ, হরতাল থেকে আমাদের মুক্তি দিন।


অন্তত পরীক্ষার সময় হরতাল দেবেন না

default-image

তানজিলা আক্তার, বিজ্ঞান বিভাগ, ফেনী লেমুয়া উচ্চবিদ্যালয়
পরীক্ষার আদৌ হবে কি না, সেই চিন্তায় অস্থির ছিলাম। ভীতি আর আতঙ্কের মধ্যে কেটেছে কয়েকটা দিন। পরীক্ষার প্রস্তুতিও কিছুটা ওলট–পালট হয়ে যায়। গত শুক্রবার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। পরীক্ষার হলে ঢোকার আগ পর্যন্ত টেনশন ছিল। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি অনুভব করি।
রাজনীতিবিদদের কাছে অনুরোধ, আমাদের কথা একবার ভাবুন। অন্তত পরীক্ষার সময় হরতাল দেবেন না। ঠিক সময়ে পরীক্ষা না হলে প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হয়। মনোবল ভেঙে যায়। পরীক্ষার সূচি এলোমেলো হওয়া মানে আমাদের সবদিক দিয়ে পিছিয়ে যাওয়া। কলেজে ভর্তি হতে হবে দেরিতে, যার প্রভাব পড়বে পুরো শিক্ষাজীবনে। আমরা শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই, যেখানে নির্ভয়ে শিক্ষাজীবন পার করতে পারবে।


সামনের পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি

default-image

ইকরা ইউনুস, বিজ্ঞান বিভাগ, রাঙামাটি লেকার্স পাবলিক স্কুল ও কলেজে
বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষাটি নিয়ে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তারপর শুনলাম পরীক্ষা হবে না। তাই বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। কিন্তু সেটাও হয়নি। পরে পুরো পরীক্ষাটি নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এখন পরীক্ষা দিতে পারলেও সামনের পরীক্ষাগুলোর কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
আমরা এমন দেশ চাই না, যে দেশে ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিভেদের কারণে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় রাজনীতিকদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, সমস্যায় পড়ছি আমরা পরীক্ষার্থী আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। আমি পত্রিকায় পড়েছি, পোশাকশিল্প, পর্যটন, কৃষিসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সমঝোতায় যেতে রাজনীতিকদের প্রতি অনুরোধ করছি।


সূচি পাল্টানোয় আমাদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে

default-image

সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজ
হরতাল-অবরোধে পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে আর আমাদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি থাকলেও হরতালের কারণে কখন কী পরীক্ষা হয়, তার কোনো ঠিক নেই। ফলে ঠিকভাবে প্রস্তুতিও নিতে পারছি না। নির্ধারিত বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার পর শুনলাম, পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে যখন সেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তখন আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়। যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদেরও সন্তান রয়েছে। আমরা তো তাঁদের সন্তানের মতো। তাহলে আমাদের পরীক্ষার সময় কেন হরতাল-অবরোধ দেওয়া হচ্ছে? তাঁদের পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারব, এ রকম বাংলাদেশ চাই। এই বাংলাদেশে পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ কিছু হবে না। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে তাদের পরীক্ষা দিতে পারবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন