বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্মতির ভিত্তিতে সে রাতে আপনারা রেইনট্রিতে গিয়েছিলেন। ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে বলা হচ্ছে। কী বলবেন?

বাদী: আমি বলে বোঝাতে পারব না। কারণ, আমার চোখ যা দেখেছে, তা দুর্ভাগ্যবশত আর কেউ দেখেনি। একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত নেওয়াকে অপরাধ বলে আমি মনে করি না। আমি আগেও বলেছিলাম, এই অনুষ্ঠানটা কোথায় হবে, সে সম্পর্কে আমি জানতাম না। আর দশটা অনুষ্ঠান যেভাবে হয়, সেভাবে হবে ভেবেই সম্মতি দিয়েছিলাম। তা–ও মোটামুটি জোর করেই সম্মতি আদায় করেছিল ওরা। আমাকে গাড়ি পাঠিয়ে আনা হয়েছে। যদি জানতাম জন্মদিনের পার্টি রেইনট্রি হোটেলে হবে, তাহলে গাড়ি পাঠানো পর্যন্ত কথাই আগাতাম না।

এত দেরিতে মামলা করার কী কারণ? পিয়াসাকে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, এটা কেন?

বাদী: এত দিন পর মামলা করে কোনো লাভ হবে না জেনেও করেছি। কারণ, পিয়াসার সমর্থন ছিল। তিনি আমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন এবং সব রকমের সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পিয়াসাই বলেছিলেন তাঁকে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে।

আদালত নাঈম আশরাফকে খালাস দিয়েছেন? আপনি কী এখনো তাঁর বিচার চান?

বাদী: এখনো বিচার চাওয়াটা বোকামিই হবে। আমাদের পক্ষে বলার মতো কেউ নেই, আমি আর বিচার চাই না। আমাদের নিয়ে শুধু বাজে বাজে কথা বানানো হচ্ছে। এগুলো হজম করার ক্ষমতা আর নেই। কিন্তু একটা প্রশ্ন করতে চাই। আসামিরা খালাস পেয়ে গেল। এখন আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? নাকি আমরা কিছু প্রমাণ করতে পারিনি বলে আমাদের নিরাপত্তার দরকার নেই?

এত বছর ধরে মামলা চালানো—যেখানে আসামিদের ‘প্রভাবশালী’ ও ‘বিত্তশালী’ বলা হচ্ছে, সেটা কি আপনাদের জন্য কঠিন ছিল? কী কী ধরনের বাধার মধ্যে পড়েছেন আপনারা?

বাদী: এটার ব্যাখ্যা ওপরে দিয়েছি। এককথায় বলতে গেলে চোরের মতো জীবন যাপন করেছি। সব সময় চেষ্টা করেছি যেন কখনো ওই পক্ষের কারও সামনে পড়তে না হয়।

আপনারা কি আপিল করবেন? ঘটনার শিকার নারীদের উদ্দেশে কিছু বলার আছে আপনার?

বাদী: আমি আমার পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তারা সমর্থন দিলে আপিল করব, নইলে এখানেই হাল ছেড়ে দেব। এমন ঘটনার শিকার নারীদের উজ্জীবিত করার মতো কিছু বলার নেই আসলে…। ধর্ষণ মামলায় কোনো ভালো ফল আসার বদলে দুর্নামই আসবে। এ রকম ভুক্তভোগীরা যেন আল্লাহর কাছে বিচার চায়। আর কেউ সুবিচার দেবে না তাদের।

সমাজ আসলে কী বার্তা পেল? আপনি কি মনে করেন নারীরা এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে থানা বা আদালতে যাওয়ায় কুণ্ঠা বোধ করবেন?

বাদী: এমন ঘটনা নিয়ে আদালতে যেতে আর কেউ সাহস করবে বলে আমি মনে করি না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন