গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত শওকত ওসমান স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, শওকত ওসমানের রচনাসমগ্র প্রকাশ করতে বাংলা একাডেমিকে পরামর্শ দেওয়া হবে।

গুণী এই লেখক তাঁর সাহিত্যকর্মের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনেও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে চর্চা করেছেন, তা অতুলনীয়। বাংলা সাহিত্যের মুক্তচিন্তার প্রতীক কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের ২৪তম প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভার সভাপতিত্ব করেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ’।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইস্পেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং শওকত ওসমানের ছেলে ইয়াফেস ওসমান। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন বাবার সঙ্গে বসে এসরাজ বাজানোর কথা। একই সঙ্গে বাবা তাঁর বন্ধু ও গুরুজন হয়ে কয়েকটি ভূমিকায় ছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অভাবের মধ্যেও একজন পিতা কতখানি সৎ হতে পারেন, কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান সে উদাহরণ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপু সিদ্দিকী।

শক্তিমান কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান গল্পের ভেতরের গল্প লিখতেন বলে উল্লেখ করেন লেখক আন্দালিব রাশদী। কবি আসাদ মান্নান বলেন, যে মানুষ নিজেকে নিজে ব্যঙ্গ করতে পারে, সে বহুমাত্রিক। শওকত ওসমান সেই বিরল লেখকদের একজন। প্রকাশক ফরিদ আহমেদ প্রয়াত শক্তিমান এই লেখকের সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করেন। দর্শকসারিতে তখন উপস্থিত ছিলেন শওকত ওসমানের পরিবারের সদস্য, লেখক ও বিশিষ্টজনেরা। স্মরণসভার সঞ্চালনা করেন মেরিন নাজনীন। সভার শেষ পর্যায়ে বাংলা সাহিত্যের গুণী এই কথাসাহিত্যিকের নামে যেকোনো একটি সড়কের নামকরণের অনুরোধ আসে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত হয় শওকত ওসমানকে নিয়ে তৈরি কয়েক মিনিটের একটি তথ্যচিত্র। বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় এই লেখকের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ‘জননী’, ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘সংস্কৃতির চড়াই–উৎরাই’, ‘আমলার মামলা’র মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম। ১৯৯৪ সালের ১৪ মে ৮১ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরপর নিজের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে এসেছিলেন শওকত ওসমান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন