বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৩টি কমিটির প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ৫৫ ধারা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা পরিপত্রের আলোকে এসব কমিটি করা হয়েছে। গত ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত পরিষদের মাসিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির সদস্যদের নামের নিচে কাজের পরিধি উল্লেখ করা হয়েছে। দেখা যায়, সব কমিটির কার্যপরিধিই পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ এবং সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রকৌশল বিভাগকে সহায়তা করা, বাস টার্মিনাল ও যাত্রীছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করা, পৌরসভার অবকাঠামোর তালিকা, ম্যাপ ও মহাপরিকল্পনা তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করা এবং ভৌত অবকাঠামোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ–পর্যালোচনার জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন, মনিটরিং ও তদারক করা ইত্যাদি।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংরক্ষিত কাউন্সিলর তাসনোভা নাছরিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নারী ও শিশুবিষয়ক কমিটির কার্যপরিধিতে নারী ও শিশুবিষয়ক কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি মেয়রকে বলা হয়েছে। মেয়রসহ প্রায় সব কাউন্সিলর এবার নতুন দায়িত্বে এসেছেন। কিছুদিনের মধ্যে সব ঠিক করা হবে।

নারী ও শিশুবিষয়ক কমিটির কার্যপরিধিতে নারী ও শিশুবিষয়ক কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
তাসনোভা নাছরিন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, ফুলপুর পৌরসভা

ধার করে সুরম্য পৌর ভবন

ফুলপুর পৌর ভবনটি পাঁচতলা সুরম্য অট্টালিকা। ভেতরে বেশ কয়েকটি কক্ষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। লিফটের ব্যবস্থাও রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পৌর ভবনটি সাবেক মেয়রের আমলে বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে করা হয়েছে। ভবন নির্মাণে খরচ হয় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ১০ বছর মেয়াদি ঋণ।

পৌরসভার বর্তমান মেয়র শশধর সেন বলেন, এমন ভবনের প্রয়োজন ছিল, সেটা বলার উপায় নেই। জনগণকে সেবা যা-ই দেওয়া হোক, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ভবনও খুব ভালোভাবে নির্মাণ করা হয়নি। বিশেষ করে দরজা–জানালাগুলোর ফিটিংস মানসম্মত নয়।

এদিকে ফুলপুর পৌরসভায় বর্জ্য ফেলার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। নদীর তীরে, পুকুরে ও পৌর এলাকার খালি জায়গাতে বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলা হয়। এ জন্য একটি প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এখনো সেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি।

গৌরীপুর পৌরসভা নানা সমস্যায়

ময়মনসিংহের আরেক পৌরসভা গৌরীপুর। ৯৫ বছরের পুরোনো এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত। পৌরসভাটিতে তৃতীয় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্বে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম।

পৌরসভার দুজন কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, এই পৌরসভায়ও স্থায়ী কমিটির কোনো কার্যক্রম নেই। গৌরীপুরে পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সড়কের অবস্থা বেহাল।

গৌরীপুর পৌরসভায় স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৩ জন। আর অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৯ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া ১১ মাসের। গৌরীপুর পৌরসভার মোট ৯২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা দিতে বছরে প্রয়োজন ২ কোটি ৪৭ হাজার টাকা। অথচ সরকারি অনুদান বাদে পৌরসভার রাজস্ব আয় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

কোনো পৌরসভায় কর্মীদের বেতন-ভাতা একসঙ্গে ১২ মাস বকেয়া থাকলে পৌরসভা বাতিল করে দেওয়ার বিধান রেখে গত ৪ অক্টোবর ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০২১’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মী বলেন, আইনটি পাস হলে বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বহু পুরোনো গৌরীপুর পৌরসভা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন