default-image

গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের বড় একটি চ্যালেঞ্জ অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ থেকে তাঁদের হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোকসহ আরও নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এসব জটিলতা দূর করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বল্প খরচের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে আইসিডিডিআরবি। কোবরা-বিপিএস নামের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় গ্রামীণ মানুষের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া যাবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ‘ল্যানসেট’ সম্প্রতি এ  গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আইসিডিডিরআরবির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৬-২০১৯ সালজুড়ে স্বল্প খরচে গ্রামীণ মানুষের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে গবেষণা করে আইসিডিডিআরবি। এই গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আরও যুক্ত ছিল পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সিঙ্গাপুরের ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণায় সহায়তা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। যৌথ এই গবেষণা থেকে উদ্ভাবিত পদ্ধতির নাম কন্ট্রোল অব ব্ল্যাড প্রেশার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাটেনুয়েশন—বাংলাদেশ, পাকিস্তান অ্যান্ড শ্রীলঙ্কা বা কোবরা-বিপিএস।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে টাঙ্গাইল ও মুন্সিগঞ্জ জেলার ১০ উপজেলায় ৮৯৫ জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালিয়েছে আইসিডিডিআরবি। এর মধ্যে ৫ উপজেলার ৪৪৭ ব্যক্তিকে ‘ইন্টারভেনশন’ দলে যুক্ত করা হয়। প্রতি তিন মাসে একবার একজন সহকারী স্বাস্থ্যকর্মী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ডিজিটাল মেশিনে রক্তচাপ মাপেন। এ সময় তাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রা পরিবর্তনে স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদান করা হয়। যাঁদের রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত বেশি ছিল, তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পাঠানো হয়। সেখানে গাইডলাইন মেনে তাঁদের চিকিৎসা ও বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।

তিন বছর ধরে চলা এই গবেষণায় প্রতিটি ইন্টারভেনশন ও প্রত্যেক রোগীর খরচ হিসাব করা হয়। সেই খরচ থেকে পুরো দেশের মানুষের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মাথাপিছু সম্ভাব্য খরচের হিসাব বের করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু করতে কেমন খরচ হতে পারে, সেই বিষয়ে ধারণা দিয়েছে গবেষণাটি, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পথ দেখিয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান ডিউক-ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের হেলথ সার্ভিস ও সিস্টেম রিসার্চের অধ্যাপক তাজিন এইচ জাফর বলেন, একেকটি ইন্টারভেনশন এই কর্মসূচির বিস্তৃত পরিসর নিয়ে সম্ভাব্য ব্যয়ের ধারণা দিয়েছে। এসব সূচক স্বাস্থ্য পরিকল্পনাকারীদের বিকল্প বেছে নিতে সহায়ক হবে।

গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডিউক-এনএসইউর হেলথ সার্ভিস ও সিস্টেম রিসার্চের অধ্যাপক এরিক ফিঙ্কেলস্টেইন। তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মানুষের হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। সাশ্রয়ী এই পদ্ধতিটি উভয় ক্ষেত্রে ভালো ফল বয়ে আনবে।

বাংলাদেশে এই গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআরবির হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিস বিভাগের অসংক্রামক রোগ শাখার প্রধান আলিয়া নাহিদ বলেন, বাংলাদেশে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের অন্যতম কারণ। এসব দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা খরচও বেশি। কোবরা-বিপিএস পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। ফলে এসব রোগের প্রকোপ কমবে। বাংলাদেশে প্রচলিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে এটি সহজে সম্প্রসারিত করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেন আমিন বলেন, এই কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে এটি কোভিড মহামারির সময় চিকিৎসকদের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা কমাতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন