প্রায় ছয় মাস ধরে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় পাবনার ইটভাটাগুলোতে কয়লা-সংকট দেখা দিয়েছে। কাঁচা ইট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। আবার কয়লানির্ভর অনেক ভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

জেলার ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার নয় উপজেলায় মোট ৮৬টি অনুমোদিত ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ভাটা সম্পূর্ণ কয়লানির্ভর এবং বাকিগুলোতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ও কয়লা দুটোরই ব্যবহার হয়। প্রায় ছয় মাস কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় কয়লানির্ভর ভাটাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। অন্যদিকে বেশ কিছু ভাটায় প্রচুর কাঁচা ইট তৈরি রয়েছে। এসব ইট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ভাটার মালিকেরা আইন লঙ্ঘন করে জালানি কাঠ পোড়াচ্ছেন। কাঠের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর দামও বেড়েছে।

ইটভাটার শ্রমিকেরা জানান, একের পর এক ইটভাটা বন্ধের কারণে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। ভাটানির্ভর শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁদের অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

জেলা সদরের হেমায়েতপুর গ্রামের ইটভাটার শ্রমিক আকমল আলী জানান, তাঁরা একসঙ্গে ৭০ জন একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। ভাটাটি এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে সবাই এখন বেকার। তিনিসহ কয়েকজন শহরে রিকশা চালানোর কাজ করছেন। অনেকে কাজের খোঁজে ঘুরছেন।

সদর উপজেলার মেসার্স এস অ্যান্ড কে ব্রিকসের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের তিনটি ইটভাটা রয়েছে। ভাটাগুলো ব্যাংকঋণে চলে। এতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিবছর তিনটি ভাটায় মোট চার হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়। গত বছর প্রতি টন কয়লা আট হাজার টাকা দরে কিনেছেন। কিন্তু এবার আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতি টন কয়লার দাম হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ফলে ভাটাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ভাটায় তৈরি কাঁচা ইটগুলোও নষ্ট হচ্ছে।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের বলেন, ‘ইটভাটার সঙ্গে বেশ কিছু ব্যবসা সম্পৃক্ত। আমরা কয়লার অভাবে ইট পোড়াতে পারছি না। ফলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন থমকে গেছে। সিমেন্ট কারখানাও তাদের উৎপাদিত সিমেন্ট বিক্রি করতে পারছে না। রডের দোকানে বিক্রি কমে গেছে।’ তার মতে, ভাটার মালিকেরা ব্যাংকঋণ নিয়ে ভাটা চালু করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে বহু মানুষ পথে বসবে।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, গত বছর এই সময়ে প্রতিটি ভাটায় প্রায় ৩০ শতাংশ ইট পোড়ানো হয়েছিল। এবার কয়লা-সংকটে ১০ শতাংশ ইটও পোড়ানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার তিনটি ইটভাটা ছিল। ইতিমধ্যেই দুটি ভাটা বন্ধ করে দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন