ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (আইইডি) উদ্যোগে গবেষণাটি করা হয়। এ গবেষণার জন্য গত বছরের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৬১টি গ্রাম ও ৩৯টি শহর এলাকা ১১ হাজার ৯৯৯টি পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৪ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৯৮ জন শিক্ষক (প্রাথমিক ও মাদ্রাসা) অংশ নেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে প্রাক্‌-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ছিল ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্রাথমিকে ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২১ সালে তা কমে হয় ৪৯ দশমিক ৬ এবং ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ করোনার সময়ে (২০২১ সালে) প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে। অন্যদিকে একই সময়ে কওমি, হাফেজিয়া ও নূরানি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেশি ছিল। ২০২০ সালে মাদ্রাসায় ৫ বছরের শিশুদের ভর্তির হার ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ। সেটি ২০২১ সালে বেড়ে হয় সাড়ে ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ৬ থেকে ১০ বছরের শিশুদের মধ্যে ২০২০ সালে মাদ্রাসায় ভর্তির হার ছিল ১১ শতাংশ। এক বছর পর (২০২১ সাল) তা বেড়ে হয় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।

মাদ্রাসার ভর্তি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে যেসব বিষয় গতকালের আলোচনায় (গবেষণার তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানে) উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে, করোনার সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও মাদ্রাসা খুব বেশি দিন বন্ধ ছিল না। অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ের পরিবর্তে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়ছিল। গ্রামাঞ্চলে বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। ফলে যেসব শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকছে, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মাদ্রাসায় গিয়ে ভর্তি হচ্ছে।

গবেষণাটি করেছেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম হেড সমীর রঞ্জন নাথ। গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ বন্ধ শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর পর প্রায় ৭৬ শতাংশ ছেলে ও প্রায় ৮৯ শতাংশ মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসে।

গবেষণায় উঠে এসেছে পঞ্চম শ্রেণির ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ কখনোই টেলিভিশনের ক্লাস করেনি। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে এ হার ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এ বিষয়ে গবেষক সমীর রঞ্জন নাথ জানান, সরকার টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নিয়েছিল। কিন্তু সেই কনটেন্টগুলো আকর্ষণীয় ছিল না।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুর রহমান বলেন, করোনা মহামারিতে শিখন ঘাটতি হয়েছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। এটা সারা বিশ্বেই হয়েছে। তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে যাওয়া এবং প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপ–আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের মতো শিক্ষার ক্ষেত্রেও মেগা প্রকল্প প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, সমস্যা যেটা হয়েছে, তা স্বীকার করতে হবে। নানা ডামাডোলের মধ্যে অনেকের (সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি) কথা হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের কথা শোনার কেউ নেই। আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে গেলে শিক্ষার ভিত্তি গড়ায় নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন