default-image

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও যে শ্রমিকেরা উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছেন, তাঁদের সুরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন একটি আলোচনা সভার বক্তারা। মহামারির মধ্যে চাকরিচ্যুত না করা, কারখানা লে-অফ না করাসহ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ শনিবার ‘দুর্যোগকালীন সময়ে শ্রমিকদের সুরক্ষা: শ্রম আইন ও অন্যান্য বিধিবিধান’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়। রানা প্লাজা ধসের আট বছর পূর্তি এবং মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি (এসআরএস), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্) এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের (এসএনএফ) যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।  রানা প্লাজা ধসের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্যোগের সময়ের কথা ভেবে শ্রম আইন সংশোধনের দাবি জানান সভার বক্তারা।

সভাপতির বক্তব্যে ব্লাস্টের মুখ্য আইন উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক বলেন, করোনাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকেরা বিপদে পড়লে কীভাবে তাঁদের সহযোগিতা করতে হয়, সেটা সবাইকে ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, হাইকোর্টে মামলা পরিচালনায় একটি টিম তৈরি করে রানা প্লাজার মামলাগুলো পরিচালনা করলে সেগুলোর অগ্রগতি হতো এবং শ্রমিকেরা একটা কিছু পেতেন। আগামী দিনে শ্রমিকেরা যেন তাঁদের ন্যায্য অধিকার পান, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিলসের সহসভাপতি শিরীন আখতার বলেন, ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে শ্রম আইনের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা ঠিকমতো সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা তদারক করতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পূর্বের শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা যেতে পারে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কারখানাভিত্তিক তালিকা করে করোনাভাইরাসের টিকা দিতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধে সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা দিবসটি এখন শ্রমজীবী মানুষের ‘অধিকারের দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত’। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির বিরূপ পরিস্থিতিতেও শ্রমিকেরা নিয়মিত কাজে যোগ দিচ্ছেন। বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত ও আইনগত সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি। দুর্যোগের সময়ে শ্রমিকদের আইনগত সুরক্ষা জোরদার করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সামাজিক সুরক্ষা।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ বলেন, করোনার সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে সরকার শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তৈরি পোশাক, চামড়া, পাদুকাশিল্পের দুস্থ শ্রমিকদের জন্য নগদ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লেবার কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেলিম আহসান খান বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা এবং অতিমারি করোনাকে একসঙ্গে দেখলে হবে না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মানবসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ভিন্ন ভিন্ন আইন থাকা প্রয়োজন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ব্লাস্টের উপপরিচালক (আইন) মো. বরকত আলী। আরও বক্তব্য দেন শ্রম আদালতের আইনজীবী আমিনা দেওয়ান শিল্পী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ, বিলস্ পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন