বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোবাশশিরের সঙ্গে তার বাবা শাহজাদা রহমানও এসেছিলেন টিকাদান কেন্দ্রে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যাচ্ছে।

করোনা তো এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এত দিন আমার মতো অভিভাবকদের একধরনের দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হতো। তবে আজ সন্তানের টিকা দেওয়ার পর এই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটে গেছে। এই টিকা করোনা থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দেবে।’
মোবাশশিরের পরপরই জেলা শহরের এসকে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ইশরাত জাহান, সদর উপজেলার জাহিদ মালেক উচ্চবিদ্যালয়ের তাসমিয়া আক্তার ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. রাশেদুল ইসলামকে টিকা দেওয়া হয়।

আজ দুপুরে মানিকগঞ্জে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মানিকগঞ্জ শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ও এসকে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সদর উপজেলায় জাহিদ মালেক উচ্চবিদ্যালয় ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের শিশুশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক আমেরিকার ফাইজারের টিকা দেওয়া হয়।

আজ সরেজমিনে দেখা যায়, কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের বহুতল ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে শিশুশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার পর কারও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য পাশের একটি বিশাল কক্ষে শিশুদের প্রায় এক ঘণ্টা করে বিশ্রামে রাখা হয়। সেখানে মেডিকেল কলেজের শিশুবিশেষজ্ঞ মো. হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

পর্যবেক্ষণকক্ষে কথা হলে টিকা নেওয়া এসকে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলে, ‘সারা দেশেই বয়স্কদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা শিশুরা কেন বাদ যাব? শিশুদেরও তো স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজন আছে। আগে ভয়ে ভয়ে স্কুলে ক্লাস করতাম। টিকা নেওয়ার পর সেই ভয় কেটে গেল। এখন নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারব।’

শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এই টিকা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও শিশুদের দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা নিরাপদ। করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্যই এই টিকা দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যেই ২১টি স্থানে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে।

default-image

টিকা নেওয়ার পর বিকেল পর্যন্ত কোনো শিশুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মো. লুৎফর রহমান বলেন, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১১২ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। টিকা নেওয়ার পর শিশুদের কারও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। টিকা শরীরে জীবাণুকে (ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস) নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে এর সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন