করোনার নমুনা সংগ্রহের 'ঝুঁকিমুক্ত' বুথ চালু সরিষাবাড়ীতে

বিজ্ঞাপন
default-image

মাঝখানে কাঁচের সুরক্ষা। এক পাশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। অন্য পাশে নমুনা দিতে আসা ব্যক্তি। কাঁচের ভেতরে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বাইরের বাতাস প্রবেশের সুযোগ নেই। শুধু নমুনা নেওয়ার জন্য কাঁচে আছে ছিদ্র।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের এই বুথ স্থাপন করা হয়েছে। জেলায় এই প্রথম নমুনার সংগ্রহের এ ধরণের বুথ চাল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসে সংক্রামণের ঝুঁকি থেকে রেহাই পাবেন।

চিকিৎসক ও নার্সদের ঝুঁকিমুক্তভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার থেকে এ বুথে নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এ বুথটি স্থাপন করা হয়েছে।

 করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নমুনা সংগ্রহের মাত্র একেবারে কম। নমুনা সংগ্রহ করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক সময় ভয় পান। চিকিৎসক ও নার্সদের ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপত্তা দিতেই এই বুথ চালু করা হয়েছে। এতে নমুনা সংগ্রহে কোনো ধরণের ঝুঁকি থাকবে না। যে কেউ এই বুথে এসে তাঁদের নমুনা দিয়ে যেতে পারবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাঠে বুথটি স্থাপন করা হয়। বুধবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বুথটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গাজী রফিকুল হক, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) দেবাশীষ রাজবংশী প্রমুখ।

আরএমও দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, এ পদ্ধতিটি চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষা দেবে। করোনার উপসর্গ থাকা ব্যক্তি এখানে নমুনা দিতে পারবেন। বিদেশি পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পূর্ণ কাঁচের সুরক্ষার মাধ্যমে বুথটি তৈরি করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নমুনা সংগ্রহকারী ব্যক্তি এক পাশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন এবং অন্য পাশে নমুনা দিতে আসা ব্যক্তি থাকবেন। বুথের সামনে দুটি ছিদ্র রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই ছিদ্র দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন। বুথের ভেতরে বাইরের বাতাস প্রবেশের সুযোগ নেই। এতে কোনো রোগীর সংম্পর্শে যাওয়ার ঝুঁকি নেই।

 সরিষাবাড়ীর ইউএনও শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে চিকিৎসক-নার্স, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশসহ সেবাদানকারী অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার নমুনা সংগ্রহের সময় চিকিৎসক-নার্সদের সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়। এতে অনেক স্বাস্থ্য কর্মী নমুনা সংগ্রহের কাজে যেতে ভয় পান। এই পদ্ধতির কারণে এখন আর কোনো ঝুঁকি থাকল না। ঝুঁকিমুক্তভাবেই স্বাস্থ্যকর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন। পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে। বুথটির নকশা করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবীন চিকিৎসকেরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন