করোনার প্রভাব বিমানে, ব্যয় কমাতে বেতন কর্তন

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়ায় ১৮টি থেকে কমে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থার ফ্লাইটে যাত্রীও বেশ কমে গেছে। রুট ও আয় কমে যাওয়ায় বিমানের সব কর্মকর্তার ওভারটাইম ভাতা প্রদান বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাসহ ককপিট এবং কেবিন ক্রুদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে কাটা হবে। গতকাল রোববার বিমানের পরিচালক প্রশাসনের এ–সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়।

এই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিমানের সব প্রশাসনিক, কারিগরি ও অপারেশনাল কর্মচারী, প্রকৌশল কর্মকর্তা এবং কেবিন ক্রুদের সব ধরনের ওভারটাইম ভাতা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। চলতি মার্চ মাস থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের ওভারটাইম দেওয়া হবে না।

এর আগে ১৫ মার্চ বিমানের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে একে মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সেসব দেশে যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে বিমানের ১৫টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় আর্থিক সাশ্রয়ে সাময়িকভাবে ওই সভায় ১০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর মধ্যে বেতন বিভাগ ষষ্ঠ থেকে তদূর্ধ্বের কর্মকর্তাসহ ককপিট এবং কেবিন ক্রুদের চলতি মার্চ মাস থেকে মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে অর্থ কেটে নেওয়া হবে। সব প্রশাসনিক, কারিগরি ও অপারেশনাল কর্মচারী এবং প্রকৌশল কর্মকর্তাদের মার্চ মাস থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওভারটাইমের কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। কেবিন ক্রুদের প্রকৃত উড্ডয়ন ঘণ্টার ভিত্তিতেই প্রতি ঘণ্টায় ২১ দশমিক ৪৩ মার্কিন ডলার হারে আউটস্ট্যান্ডিং মিল অথবা ওভারসিজ অ্যালাউন্স ভাতা দেওয়া হবে। আগে বিমানের কেবিন ক্রুরা প্রতি মাসে ৭০ ঘণ্টার জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা আউটস্ট্যান্ডিং মিল অথবা ওভারসিজ অ্যালাউন্স ভাতা পেতেন। কোনো ক্রু ৭০ ঘণ্টা ডিউটি না করলেও এই অর্থ পেতেন। নতুন নিয়মে এখন থেকে একজন কেবিন ক্রু মাসে প্রতি ঘণ্টা অনুযায়ী এই ভাতা পাবেন।

বিমানের অপারেশন বিঘ্ন না ঘটিয়ে ককপিট এবং কেবিন ক্রুদের প্রতি মাসে আট দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে।এ জন্য চলতি মাস থেকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। চলতি মাস থকে নির্বাহী পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও সমমানের এবং মর্যাদার কর্মকর্তা, উপমহাব্যবস্থাপক বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্যদের আপ্যায়ন ভাতা বিদ্যমান হারের ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে কোনো মিল্ক অ্যালাউন্স দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ফুড সাবসিডি ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ত ও সেবামূলক কাজের অর্থ পরিশোধ স্থগিত করা হয়েছে। বিমানের প্রকৌশল পরিদপ্তর ও অন্যান্য পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি বা জ্বালানি ব্যয় বাবদ কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।

আজ সোমবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মার্চ মাসে বিমানের টিকিট বিক্রি নেই। এর সঙ্গে উল্টো উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ জন্য বাড়তি লোকবল প্রয়োজন পড়ছে। বিভিন্ন দেশে বিমানের ১৭টি অফিসও চালাতে হচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মার্চ মাসেই শুরু ক্ষতি হয়েছে ৩২০ কোটি টাকা। করোনার কারণে অনেক বিমান সংস্থা বন্ধই হয়ে গেছে। আমরা তবুও বেতন দিচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন