বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনার সময় দেশে ফিরে আসা ৯২ জন নারী কর্মী ও বিদেশে থাকা নারী কর্মীদের পরিবারের ৬১ সদস্যের ওপর সমীক্ষাটি করা হয়। এর মধ্যে সৌদিপ্রবাসী ১০১ জন, বাকিরা বিভিন্ন দেশের।

রামরুর সমীক্ষা বলছে, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে কর্মস্থলে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন ৩৫ শতাংশ নারী কর্মী। মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার ৫২ শতাংশ আর যৌন নিপীড়নের শিকার ১১ শতাংশ নারী। নিয়োগকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর হাতে এসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশে ফিরে তালাক, অসুস্থতা, সামাজিক কলঙ্কসহ নানা সমস্যার মধ্যে পড়েছেন ২২ ভাগ নারী।

সমীক্ষা বলছে, বিদেশে যেতে নারীরা গড়ে ৫১ হাজার ৭২৮ টাকা খরচ করেছেন। করোনার আগে গড়ে তাঁদের মাসিক বেতন ছিল ২২ হাজার ৩৩১ টাকা, করোনায় কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪৬ টাকা। করোনার আগে নিয়মিত বেতন পেতেন ৬১ ভাগ নারী। করোনার মধ্যে এটি নেমে এসেছে ৪৭ শতাংশে। বেতন বকেয়া রেখে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ৫৫ শতাংশ নারী।

এ ছাড়া করোনার প্রভাবে কর্মীদের আয় কমেছে, কিন্তু বেড়েছে কাজের চাপ ও সময়। করোনার আগে ৯২ শতাংশ পরিবারে নিয়মিত প্রবাসী আয় এলেও মহামারি শুরুর পর ৯৭ শতাংশ পরিবার নিয়মিত অর্থ পায়নি। আগে ৮৫ ভাগ পরিবারে প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারলেও করোনার পর ৯৫ ভাগ পরিবার তা পারেনি বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সৌদিতে নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ আছে। অভিবাসন খাতে অনেক কাজ করছে সরকার। তবে সব ক্ষেত্রেই আমলাতন্ত্র বড় বাধা।
নানা সমস্যায় অভিবাসীর পরিবার

অভিবাসনের সামাজিক ব্যয় মূল্যায়ন করতে স্থানীয় বা বিদেশে অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য মিলে মোট ৪ হাজার ৮৮৪ জনের ওপর আরেকটি সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, আয়ের জন্য পরিবারের একজন অভিবাসী হলেও বাকি সদস্যরা নানা সমস্যায় পড়েন। একাকিত্ব, বাড়তি কাজের চাপ, শারীরিক-মানসিক-যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ নানা সমস্যার মধ্যে পড়েন তাঁরা। ৮৯ শতাংশ নারী সদস্যরা সামাজিকভাবে বাজে মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। ৮৫ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা মানিয়ে নিতে পারলেও বাকি ১৫ শতাংশ মানিয়ে নিতে পারেনি।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়বে বাস্তুচ্যুতি

আরেকটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় সাড়ে তিন কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রতি সাতজনে একজন বাস্তুচ্যুত হবে। এতে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এলাকাছাড়া হবে। দেশে নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। আবার অর্থনৈতিক কারণেও গ্রাম ছেড়ে শহরে ছুটছে মানুষ।

এ সময় সাংসদ তানভীর শাকিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্য আয়ের জন্য শহরে চলে যান। নারী ও শিশুরা এলাকাতেই থাকে। কখনো কখনো পুরুষেরা আর ফেরেন না। প্রধানমন্ত্রীর ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ বাস্তবায়ন হলে মানুষকে শহরমুখী হতে হবে না।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশ প্রকল্পের সহায়তায় পৃথক তিনটি সমীক্ষা করেছে রামরু। সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, বাস্তুচ্যুতির দিক থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে বাংলাদেশ। আবার জলবায়ু পরিবর্তন হলেও সবাই জায়গা বদল করতে পারে না। নানা কারণে আটকা পড়ে থাকে এলাকায়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংসদ গ্লোরিয়া ঝর্না সরকার, প্রকাশ প্রকল্পের সিনিয়ার আইবিপি ম্যানেজার শিরিন লিরা। তিনটি আলাদা পর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিবাসন খাতে কাজের অভিজ্ঞতা ও তাঁদের পরামর্শ তুলে ধরেন। ধারাবাহিকভাবে পর্ব তিনটি সঞ্চালনা করেন বার্তা সংস্থা এফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম, এটিএন বাংলার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক কেরামত উল্ল্যাহ বিপ্লব ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন