default-image

করোনা মহামারি হঠাৎ করেই থমকে দিয়েছে জনজীবন। যান চলাচল বন্ধ, রাস্তাঘাটে লোকজন নেই বললেই চলে। বৈশ্বিক এই মহামারি থেকে বাঁচতে সবাই যখন নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে, কিছু মা-বাবার উদ্বেগ বাড়ছে—করোনা থেকে বাঁচতে হবে, সঙ্গে অসুস্থ সন্তানের জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে হবে, হাসপাতালে গিয়ে রক্ত শরীরে দিতে হবে।

ঢাকার শান্তিনগরে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে সাধারণ ছুটির মধ্যেও রয়েছে রোগীদের আসা–যাওয়া। লকডাউনের মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার পাশের জেলাগুলো থেকে রক্ত নেওয়ার জন্য আসছে রোগীরা।

অনেক কষ্ট করে সিএনজি, রিকশায় ভেঙে ভেঙে মিরপুর থেকে এসেছেন হামিদা বেগম। তাঁর দুটি সন্তান। দুজনেরই থ্যালাসেমিয়া রোগ। প্রতি মাসে একবার রক্ত দিতে হয়। রক্ত না দিলে তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে যায়।

ছোট ছেলে ৫ বছরের ছোট্ট ফুটফুটে ফেরদৌস। দুষ্টুমি, খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ লেগেই রয়েছে সব সময়। এখনো বুঝতে শেখেনি যে একটি মারাত্মক রোগ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে সে। বড় ছেলে বিল্লাল ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তাকেও ছোটবেলা থেকেই প্রতি মাসে রক্ত দিতে হচ্ছে।

ফেরদৌস-বিল্লালের বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। মা হামিদাকেই দুটি সন্তানকে নিয়ে আসতে হয় হাসপাতালে রক্ত দেওয়ার জন্য। দেশের এ পরিস্থিতিতে প্রায় দুই মাস স্বামী কাজ করতে পারছেন না।

হামিদা বেগম বলেন, 'করোনার কারণে রক্ত পেতে এবার অনেক সমস্যা হয়েছে। বিল্লালের হিমোগ্লোবিন লেভেল ৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডাক্তারের পরামর্শ, ওকে এই মাসে দুই ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। তিন বেলা বাচ্চাদের প্লেটে খাবার দিতে কষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসার খরচের কথা চিন্তা করলেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।'

ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেন হামিদা। মায়ের হাত ধরে থাকে বিল্লাল।

default-image

সুইয়ের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ছোট ছোট বাচ্চারা যখন কাঁদছে, তখন নার্স স্টেশনের পাশের একটা চেয়ারে মুখ শক্ত করে বসে সুমাইয়া। আর কিছুক্ষণ পরে ডাক পড়বে তার। কাঁদতে চায় না সে।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সুমাইয়া আক্তারের বয়স ৯ বছর। বছরখানেক হলো তার বাবা মারা গেছেন। মা গৃহিণী হওয়ায় এখন সংসারের ভার পড়েছে বড় ভাই সুজনের ওপর।

বাবা বেঁচে থাকতে সুমাইয়ার চিকিৎসা নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি কাউকে। যেভাবেই হোক একটা ব্যবস্থা হয়ে যেত। কিন্তু তাঁর অবর্তমানে সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এদিকে চিকিৎসা খরচ মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। দিশেহারা মা থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার দুরবস্থার কথা জানালে জাকাত ফান্ড থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তাতে মায়ের মনে একটু স্বস্তি মিললেও দুশ্চিন্তা থেকেই যায়—ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ডের অপ্রতুলতার কারণে মেয়ের চিকিৎসা যদি কোনো দিন থেমে যায়?

থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ৩ হাজার ২০৫ জন নিবন্ধিত রোগী আছে, যাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র বা নিঃস্ব। এসব পরিবারের পক্ষে থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ তাই সমাজের বিত্তবানদের অসুস্থ এসব রোগীকে জাকাত দান করে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক বছর থেকে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সহায়তা করছে প্রথম আলো।

২০১৯ সালে ফাউন্ডেশন ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা জাকাত সংগ্রহ করেছে, যার মাধ্যমে ৪২৮ জন রোগীকে সারা বছর চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের জাকাত কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মনজুর মোরশেদ বলেন, 'আমরা সাহায্যের জন্য রোগীদের কাছ থেকে প্রচুর আবেদন পাই। আমাদের কমিটি ইসলামি শরিয়াহ মতে আবেদন যাচাই করে রোগীদের জাকাত ফান্ড থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে। ফান্ডের অপ্রতুলতার কারণে আমরা এখনো অনেক যোগ্য রোগীকে সাহায্য দিতে পারছি না। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে মনে হচ্ছে এ বছর সাহায্যপ্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।'

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনে জাকাত দিয়ে ফেরদৌস, বিল্লাল ও সুমাইয়ার মতো থ্যালাসেমিয়া রোগীদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করুন। এসব শিশুকে সাহায্য করার ঠিকানা, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন (জাকাত ফান্ড), হিসাব নম্বর ২০৫০১৪৫০১০০৫১৯৩১৫, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, মৌচাক শাখা, ঢাকা অথবা হিসাব নম্বর- ০১১৩০৯৯৪৮০২, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গুলশান শাখা, ঢাকা। অনলাইনে ভিসা, মাস্টারকার্ড, বা আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডের মাধ্যমে দান করতে ভিজিট করুন- (www.thals.org/zakat)। বিকাশ নম্বর ০১৭২৯২৮৪২৫৭ -এ 'পেমেন্ট' অপশন ব্যবহার করেও টাকা পাঠাতে পারেন। ফাউন্ডেশনের জাকাত সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: (https://www.thals.org/zakat-for-life)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0