করোনা-পরবর্তী বিশ্বের জন্য কতটুকু প্রস্তুত আমরা

বিজ্ঞাপন

করোনা–পরবর্তী পৃথিবীটা হয়তো থাকবে না আর আগের মতো, কিন্তু তার জন্য কতটুকু প্রস্তুত আমরা।

করোনা–পরবর্তী সময়ের যে পরিবর্তন, তার ছোঁয়া আমাদের দেশেও লাগতে শুরু করেছে। সবকিছুই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিফট করার চেষ্টা করা হচ্ছে এ দুর্যোগের সময়ে। কিছুদিন আগেও কেই–বা ভাবতে পেরেছিল কোরবানির পশু অনলাইনে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকাভিত্তিক লকডাউনে বড় ধরনের সহায়তা করছে ই–কমার্স সেক্টর। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, অফিসগুলোর মিটিং হচ্ছে অনলাইনে, স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে, আম্পানের মতো দুর্যোগগুলোয় সবাইকে সতর্ক করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ইন্টারনেট। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ভার্চ্যুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার।

করোনা–পরবর্তী সময়ে অনলাইনের এ ব্যবহার আরও বাড়বে। এটা যেমন একদিকে আশাব্যাঞ্জক, আরেক দিক দিয়ে আবার উদ্বেগজনক, অনলাইনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইমের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এত এত ডেটা তৈরি হচ্ছে, সেই ডেটার সিকিউরিটি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ মহাবিপ্লব সামাল দিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ। কিন্তু তাদের জন্য কতটুকু সুযোগ রাখা হচ্ছে দেশে। প্রতিবছর যে আইটি সিএসই থেকে এত এত গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই দেখা যাচ্ছে স্কলারশিপ নিয়ে বাইরের দেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একজন আইটি গ্র্যাজুয়েট যখন দেখছেন, বাকিদের মতো সুযোগ-সুবিধা তিনি পাচ্ছেন না, তখন স্বভাবতই চাইছেন বিদেশে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে।

২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে হাইটেক পার্ক। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদকে আইটি খাতে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯–এ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণার পর দেশে বিগত ১১ বছরে তথ্য ও প্রযুক্তি (আইটি) খাতে ১০ লক্ষাধিক তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আইটি খাতের এই সম্প্রসারণের ফলে আগামী পাঁচ বছরে দেশে আরও ১০ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এটা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে করোনা–পরবর্তী বিশ্বে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু এ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বিনির্মাণ করতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে প্রাইভেট সেক্টরগুলোকেও, দক্ষ জনগোষ্ঠীকে কাজের সুযোগ করে দিতে হবে।

সবাইকে মনে রাখতে হবে, সামনের দিনগুলোয় টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হবে তথ্যপ্রযুক্তি। যারা তথ্যপ্রযুক্তিতে যত এগিয়ে থাকবে, এ যুদ্ধে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। আর এর জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ। কিন্তু তাদের এ লড়াইয়ে নামার মঞ্চ প্রস্তুত করে দেওয়ার দায়িত্ব বাকিদের।

*আইআইটি, (৪র্থ বর্ষ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন