বিজ্ঞাপন

নগরবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, আগের বিল্ডিং কোডে কে বা কারা বাস্তবায়ন করবে, তা স্পষ্ট ছিল না। সংশোধিত বিল্ডিং কোডের সুবিধা পেতে হলে অথরিটি বা কর্তৃপক্ষ লাগবেই। শুধু বিল্ডিং কোড নয়, ভবন তৈরিতে ইমারত নির্মাণ ও পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট অন্য আইনগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা-ও দেখভাল করবে এই কর্তৃপক্ষ।

ইমারত নির্মাণে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নকশা ও নির্মাণের প্রতিটি স্তরে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করতে হয়। দেশে ১৯৯৩ সালে প্রথম বিল্ডিং কোড প্রণীত হয়। কিন্তু আইনি জটিলতায় ১৩ বছর ওই বিধি গেজেট হয়নি। সেই বিধিতে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ ছিল না। ২০০৬ সালে ‘ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২’ সংশোধন করে বিল্ডিং কোডকে আইনগত ভিত্তি দেওয়া হয়।

■ ২০০৯ সালে বিল্ডিং কোড সংশোধনের কাজ শুরু হয়। ■ দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সংশোধিত বিল্ডিং কোড চূড়ান্ত হলেও এর গেজেট নোটিফিকেশন আটকে ছিল কয়েক বছর। ■ অবশেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত ‌‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০‘ গেজেট হয়েছে। ■ এই বিধি মেনে ঢাকাসহ সারা দেশে ভবন নির্মাণ করতে হবে।

২০০৯ সালে বিল্ডিং কোড সংশোধনের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সংশোধিত বিল্ডিং কোড চূড়ান্ত হলেও এর গেজেট নোটিফিকেশন আটকে ছিল কয়েক বছর। অবশেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত ‌‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০‘ গেজেট হয়েছে। এই বিধি মেনে ঢাকাসহ সারা দেশে ভবন নির্মাণ করতে হবে।

বিধি অনুযায়ী, দেশব্যাপী বিল্ডিং কোড প্রয়োগ, বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য সরকার বাংলাদেশ ইমারত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশে বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি—বিবিআরএ) নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই কর্তৃপক্ষ বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। পাঁচ সদস্যের এই কর্তৃপক্ষে একজন পরিকল্পনাবিদ, একজন স্থপতি, একজন পুরকৌশলী, একজন আইনবিদ এবং একজন আমলা থাকবেন। সদস্যদের কমপক্ষে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। সরকার সদস্যদের তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেবে। তাঁদের একজনকে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করা হবে।

সংশোধিত বিল্ডিং কোডের গেজেট হতে অনেক সময় চলে গেছে। কিন্তু ইমারত নির্মাণ কর্তৃপক্ষ গঠনে কালক্ষেপণ করলে এই বিধি কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।
অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বিধিমতে, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইমারত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয় থাকবে। এর প্রধানের পদবি বিল্ডিং অফিশিয়াল। একজন নগর–পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি বা পুরকৌশলীকে বিল্ডিং অফিশিয়াল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি সংস্থাগুলো থেকেই বিল্ডিং অফিশিয়াল নিয়োগ করা হবে, যাঁরা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটির মাধ্যমে ইমারত নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়াদির তদারক করবেন।

ঢাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল্ডিং অফিশিয়াল নির্ধারণ করার দায়িত্ব পালন করবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিল্ডিং অফিশিয়াল নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা। আর এসব সংস্থার আওতার বাইরের এলাকাগুলোতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীরা বিল্ডিং অফিশিয়াল নির্ধারণ করবেন।

জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সদস্য চূড়ান্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ভার্চ্যুয়ালি একটি সভা হয়েছে। আরও দু-একবার সভা করতে হবে। খুব দ্রুতই কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ শেষ করা হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সংশোধিত বিল্ডিং কোডের গেজেট হতে অনেক সময় চলে গেছে। কিন্তু ইমারত নির্মাণ কর্তৃপক্ষ গঠনে কালক্ষেপণ করলে এই বিধি কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন