টানা ৫৩ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ঘাটগুলোতে পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাটে কর্মবিরতি শুরু করেন ঘাট শ্রমিকেরা। গতকাল শনিবার সকালে চেম্বার ভবনে শ্রমিক, ঠিকাদার সমিতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকের পর বেলা একটা থেকে কাজে যোগ দেন শ্রমিকেরা।
কর্মবিরতির কারণে ঘাটে ও নদীতে অপেক্ষমাণ ১৮টি জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতিতে গতকাল চেম্বার ভবনে শ্রমিক, ঠিকাদার সমিতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সাংসদ এম এ লতিফ, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, ঘাট ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম ঘাট গুদাম শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব রাজা মিয়া হাওলাদার প্রথম আলোকে জানান, বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি ১৭ শতাংশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপরই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। একই সময়ে পণ্য খালাসের কাজও শুরু হয়। তিনি জানান, প্রতি ৯০ কেজি পণ্য বস্তাবন্দী করে গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য মজুরি আগে ছিল নয় টাকা। এখন তা বাড়িয়ে সাড়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। খাত অনুযায়ী প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হয়েছে।
বন্দরের বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করে এসব ঘাটে এনে খালাস করা হয়। ঘাটে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া অনুযায়ী, লাইটার জাহাজ থেকে প্রথমে ক্রেনের সাহায্যে পণ্য খালাস করে ঘাটে রাখা হয়। এরপর ওজন করে শ্রমিকেরা মাথায় নিয়ে বস্তাবন্দী পণ্য ট্রাকে বোঝাই করেন। এই শ্রমিকদের নিয়োগ দেয় ঘাট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর আমদানিকারকের পক্ষে কাজ করেন ঘাট ঠিকাদারেরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0