কর্মস্থলে ফেরার তাড়া, আজ ফেরিতে মানুষের ঢল

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলের দিকে মানুষ ছুটছে। আজ শুক্রবার সপ্তাহের ছুটির শেষ দিনে এসব মানুষের ঢল নামে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে। ঘাটে চাপ কমাতে ছয় কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে ঘাটে গেছে। এরপরও যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

আজ দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে মানুষ দৌলতদিয়া ঘাটে ছুটছে। ঘাটে যানবাহনের চাপ কমাতে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়ে সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি পুলিশ আটকে দিচ্ছে। চাপ বাড়তে থাকায় গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি পুলিশ গোয়ালন্দ বাজারের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে চর দৌলতদিয়া হয়ে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে সেসব গাড়ি। সরাসরি ঘাটে যাচ্ছে যাত্রীবাহী বাস ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি। ঘাটে জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার লম্বা লাইন হয়েছে। কোথাও দুই-তিন লাইনে হাজারো যানবাহন আটকে আছে বলে চালকদের ধারণা।
ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে পুলিশ বক্সের সামনে ছোট গাড়ির যাত্রীদের নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। অনেকে ব্যাগ-লাগেজ, কোলে শিশু ও মাথায় বাড়ি থেকে আনা নানা জিনিসবোঝাই বস্তা নিয়ে ফেরির দিকে দীর্ঘ পথ হেঁটে গেছে। মানুষের ঢলে ফেরির কোথাও দাঁড়ানোর জায়গাটুকু নেই। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাধ্য হয়ে অনেকটা গা–ছাড়া হয়ে থাকতে দেখা যায়। মানুষের স্রোতে কে শোনে কার কথা?
রাজবাড়ীর পাংশা থেকে নবীনগর যাচ্ছিলেন পোশাকশ্রমিক লক্ষ্মণ কান্তি দাস। তিনি ভিড় ঠেলে ফেরিতে ওঠার সময় বললেন, ‘কাল শনিবার থেকে গার্মেন্টস খোলা। উপায় নাই, যত ঝক্কিঝামেলাই আসুক না কেন, চাকরি বাঁচাতে হলে যেতে হবে। একজনের শরীর আরেকজনের সঙ্গে লেগে রয়েছে। কোথাও নিয়ম মানা হচ্ছে না। উপায় নেই, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই রওনা হয়েছি।’
সাতক্ষীরা থেকে আসা একটি দূরপাল্লার পরিবহনের চালক আলাউদ্দিন শেখ বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টা ধরে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় লাইনে আছি। আরও কতক্ষণ সময় লাগবে, বুঝতে পারছি না। ছুটি শেষ হওয়ায় সবাই ঢাকার দিকে এখন ছুটছে।’

প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমের মধ্যে স্রোতের মতো মানুষের ছুটতে দেখে স্থানীয় লোকজন জানান, গত মঙ্গলবার থেকে মানুষজন ছুটতে শুরু করছে। তবে আজ ভিড় সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই প্রতিটি ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটে মানুষ আর মানুষ।
ঘাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, ছুটি শেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ আজ সকাল থেকেই ছুটছেন। বিশেষ করে কাল থেকে পোশাক কারখানা খোলা থাকায় আজ মানুষের ঢল বেশি। চাপ কমাতে গোয়ালন্দ মোড়ে ট্রাফিক বিভাগ থেকে সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো চর দৌলতদিয়া হয়ে ঘাটে যাচ্ছে।
ওসি বলেন, যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘মানুষের ভিড়ে ফেরিতে ঠিকমতো গাড়ি পার হতে পারছে না। যাত্রীদের কষ্ট হলেও আমরা লঞ্চে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু সেখানেও ভিড়। সামাজিক দূরত্ব কেউ মানছে না।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, ৯টি বড়, ১টি মাঝারি, ৬টি ছোটসহ ১৬টি ফেরিতে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। কিন্তু নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথের অনেক গাড়ি এই রুটে আসছে। যে কারণে দৌলতদিয়ায় গাড়ির চাপ রয়েই যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন