চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি ইউনিয়নে গত পাঁচ বছরে তেমন উন্নয়ন হয়নি। কাঙ্ক্ষিত সেবাও পায়নি এলাকাবাসী। ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি, চেয়ারম্যান-সদস্যদের দ্বন্দ্বে এ সমস্যা হয়েছে। সেবায় ব্যর্থ হলেও ইউনিয়নে গত ১০ বছরে গড়ে ৮০ শতাংশ কর আদায় হয়েছে।
এটি উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চিত্র।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের লোকসংখ্যা ২২ হাজার, ভোটার প্রায় ১৭ হাজার। ২১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে পাকা ৭ কিলোমিটার। ৮০ শতাংশ সড়ক বেহাল। ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে বিদ্যুৎ আছে ২ ওয়ার্ডে।
সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে ইউনিয়নে টিআর, কাবিখা, ভিজিডিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ এসেছে ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। ইউনিয়নের ২৫টি কালভার্ট জরাজীর্ণ। ৯ ওয়ার্ডের একটিতেও গভীর নলকূপ নেই। ২০১৪ সালে কর আদায় হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৩ টাকা। ২০১৫ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। গত ১০ বছরে গড়ে আদায় হয়েছে ৮০ শতাংশ কর।
গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের ২, ৪, ৫, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার অধিকাংশ সড়ক কাঁচা ও সরু। পাকা সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতু ও কালভার্টগুলো নড়বড়ে। আগামী ৭ মে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের তোড়জোড় থাকলেও ভোটারদের আগ্রহ কম।
ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হেলাল বলেন, ‘কেল করই দিতাছি। একটু উন্নয়নও নাই। রাস্তাঘাট খুবই খারাপ। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, নলকূপ নাই। নির্বাচন নিয়া আমাগো আগ্রহ নাই।’
ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাবেদ তফাদার বলেন, ‘সনদপত্র দেওন ছাড়া কোনো উন্নয়ন অয় নাই। একটা সনদের জন্য ১৫ দিন হেগো পিছে ঘুরছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ইউনিয়নে গত নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশ্রাফ পাটওয়ারী চেয়ারম্যান হন। ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে নয়জন ইউপি সদস্য ইউএনওর কাছে উন্নয়ন প্রকল্পের ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন। ওই বছরের ২১ মে নয়জন ইউপি সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। ইউএনও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত বছরের ৫ আগস্ট মন্ত্রণালয় দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করে। গত ডিসেম্বর থেকে একজন ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে ওই পদে কাজ চালাচ্ছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাই বলেন, চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও চেয়ারম্যান-সদস্যদের দ্বন্দ্বে এখানে উন্নয়ন হয়নি। আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন করবেন। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, দুর্নীতির জালে আটকে গেছে উন্নয়ন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান নোয়াব খানের দাবি, যা উন্নয়ন হয়েছে তা তাঁর আমলেই।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন