রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটসের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের আগস্ট মাসে হাইকোর্টে রিট করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে ‘মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের কিছু বইয়ের বিষয়ে কপিরাইট অফিসের দেওয়া আদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য স্থগিত করেন।

চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন। কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়। ফলে কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

এরপর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। কাজী আনোয়ার হোসেন গত ১৯ জানুয়ারি মারা যান। এর আগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন তিনি। গত বছরের ২৮ আগস্ট মৃত্যু হয় শেখ আবদুল হাকিমের। পরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ওই আবেদনে পক্ষভুক্ত হয়ে ১১ এপ্রিল লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ও এক নাতনি।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও হামিদুল মিসবাহ। রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও মো. ইফতাবুল কামাল।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, প্রয়াত আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ও নাতনি পক্ষভুক্ত হয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। এতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়। চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ না দিয়ে লিভ টু আপিল ৩০ মে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল রইল।

কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা আদালত থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগপর্যন্ত আবেদনকারীর দাবি করা ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হলো। এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে (সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী) আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করা প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রীত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয়মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন