সংবাদকর্মীর ক্যামেরায় একটি লাশের ছবি দেখেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনেরা। এই একজনকে খুঁজে পেলেও আরও তিনজনের সন্ধান পাচ্ছেন না তাঁরা। ঘাটে এমন আরও অনেকেই প্রিয়জনের খোঁজ পেতে অপেক্ষায় আছেন।
রাজবাড়ীর পাটুরিয়া থেকে যাত্রা করার ১৫ মিনিটের মধ্যে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায় এমভি মোস্তফা নামের লঞ্চটি। ওই লঞ্চে দেড় শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে উঠেছিলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ধর্মহাটি গ্রামের আবুল হোসেন মল্লিকের ছেলের বউ শারমীন আক্তার (৩০), শারমীনের মেয়ে জরিনা আক্তার (৫), ভাই এনামুল হক (১৩) ও বোন রুনা আক্তার। লঞ্চডুবির খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে ছুটে এসেছেন শারমীনের শ্বশুর হোসেন মল্লিক, বড় জা শিলা বেগম, চাচি শাশুড়ি সেলিনা বেগমসহ কয়েকজন।
শিলা ও সেলিনা জানালেন, শারমীন গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের নানাবাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াত খেয়ে মেয়ে ও ভাইবোনকে নিয়ে গতকাল লঞ্চে করে রওনা হন। দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে যাঁরাই ফেরিঘাটে ফিরে আসছেন, তাঁদের কাছেই শিলা ও সেলিনা আকুতি জানাচ্ছেন কেউ লাশের কোনো ছবি তুলেছেন কি না। এমন আকুতির পর স্থানীয় এক সংবাদকর্মী নিজের ক্যামেরায় ধারণ করা কয়েকটি লাশের ছবি তাঁদের দেখাচ্ছিলেন। তখন এক কিশোরের ছবি দেখে আর্তচিৎকার করে ওঠে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। ওই কিশোরকে নিখোঁজ শারমীনের ভাই এনামুল বলে শনাক্ত করেন তাঁরা। কাঁদতে কাঁদতে শিলা জানালেন, এনামুলকে আপন ছোট ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন। মানিকগঞ্জ থেকে রওয়ানা হওয়ার আগে মুঠোফোনে কথা হয়।
শারমীনের শ্বশুর আবুল হোসেন মল্লিক কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, ছেলে মুরাদ মল্লিক সুনামগঞ্জে চাকরি করে। মানিকগঞ্জে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে গাড়িতে তুলে দিয়েই সে সুনামগঞ্জে চলে যায়। তার আগে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে। নাতনি জরিনাকে দেখে রাখতে বলে। একপর্যায়ে বিলাপ করতে থাকলেন, ‘এখন তো নাতনিকে খুঁজে পাচ্ছি না।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন