বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গ্রেপ্তার দেখানোর আগে ‘অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন’ চালানোর অভিযোগে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১০ মার্চ মামলা করেন কার্টুনিস্ট কিশোর।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কে বা কারা কার্টুনিস্ট কিশোরকে কোন গাড়িতে করে, কোন রোডের, কোন স্যাঁতসেঁতে বাড়িতে রেখেছিল, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য সরবরাহ করতে পারেননি বাদী। প্রকৃতপক্ষে কার্টুনিস্ট কিশোরকে র‍্যাব তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিশোরের বিরুদ্ধে মামলার বাদী র‍্যাব-৩–এর কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কার্টুনিস্ট কিশোরকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে কোনো প্রকারের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়নি। মামলাটির চারজন তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁরাও কিশোরকে নির্যাতনের কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কার্টুনিস্ট কিশোরের ভাই আহসান কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনিও জানাতে পারেননি, ২ মে কারা কিশোরকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তবে আহসান কবির জানান, সেদিন কিশোরের বাসার সবকিছু তছনছ করে। কিশোরের মুঠোফোন ফোন কেড়ে নেয়। পরে তাঁর নাক–মুখে জমটুপি পরিয়ে বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামায়। পরে গাড়িতে উঠিয়ে জোরে গান ছেড়ে দেয়, যাতে কিশোরের চিৎকার কেউ শুনতে না পায়। এই মামলায় ১৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই।

অবশ্য কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর মামলায় বলেছিলেন, গত বছরের ৫ মে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু তাঁকে ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান ১৬-১৭ জন সাদাপোশাকধারী ব্যক্তি। তাঁরা কিশোরকে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে অচেনা নির্জন স্থানে নিয়ে যান। স্যাঁতসেঁতে একটি কক্ষে ৪ মে পর্যন্ত তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে।

ওই সময়ে তাঁর আঁকা বিভিন্ন কার্টুন দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কানে প্রচণ্ড জোরে থাপ্পড় মারেন একজন। তিনি চেয়ার থেকে পড়ে যান। কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ে। পরে আবার তাঁকে মারতে শুরু করেন তাঁরা। ৫ মে তিনি নিজেকে র‍্যাব কার্যালয়ে দেখতে পান। সেখানে লেখক মুশতাক আহমেদকে দেখতে পান কিশোর।

রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‍্যাবের করা মামলায় কিশোরের সঙ্গে মুশতাককেও আসামি করা হয়। এই মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। মুশতাক আহমেদ কারাবন্দী অবস্থায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান। প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর ৩ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে ছয় মাসের জামিন পান কিশোর। ৪ মার্চ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কার্টুনিস্ট কিশোরের বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটি এখন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন