default-image

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুস্তাক আহমেদ, রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ভূঁইয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই আদেশ দেন।

প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ওই ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী শামীম আল মামুন। ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি এই মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুস্তাক আহমেদ ও রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বাকি আটজনকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়নি। অবশ্য পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে না নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই মামলা অধিকতর তদন্ত চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ বুধবার শুনানি নিয়ে আদালত মামলাটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে (সিটিটিসি) তদন্তের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্ত চেয়ে আবেদন করেন তিনি। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এ মামলায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নানসহ আটজনকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়নি। অপর সাতজন আসামি হলেন ‘নেত্র নিউজ’-এর তাসনীম খলিল, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলম, জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, জুলকারনাইন সায়ের খান, আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ ও ফিলিপ শুমাখার।

গত বছরের মে মাসে রমনা থানায় ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে র‍্যাব তিনটি মামলা করে।

তাঁদের বিরুদ্ধে যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, তাঁরা রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধ করেছেন।

গত বছরের ৫ মে র‍্যাব-৩–এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক রমনা থানায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মোস্তাক আহমেদ, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, মিনহাজ মান্নানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুস্তাক আহমেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ (ইংরেজি হরফে লেখা) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে র‍্যাব দাবি করে, মুস্তাক আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদে দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মিনহাজ মান্নানের সম্পৃক্ততা পায় তারা।

‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ পেজটি চালানোর দায়ে যে ছয়জনকে আসামি করা হয়, তাঁরা হলেন সায়ের জুলকারনাইন, আহমেদ কবির কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও মুস্তাক আহমেদ। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনের জেরে আসামি হন প্রবাসী সাংবাদিক তাসনীম খলিল ও সাহেদ আলম, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মিনহাজ মান্নান।

গত সেপ্টেম্বরে এই মামলায় গ্রেপ্তার মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুস্তাকের জামিন হয়নি। তাঁরা কারাগারেই আছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন