বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় তোফাজ্জেল হোসেনের পক্ষে প্রচারণায় নামেন তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জালালপুর এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন তোফাজ্জেলের সমর্থকেরা। একই সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী মজিবর রহমান মোল্লার পক্ষের লোকজনও ওই এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। পরে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান করে দেশি লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হন উভয় পক্ষের পাঁচজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় বিদ্রোহী প্রার্থীর পোস্টার ও ফেস্টুন।

বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমি বর্তমান চেয়ারম্যান। এলাকায় আমার সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা থাকার পরও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য প্রচারণা চালাতে পারছি না। তাঁরা রাতের আঁধারে আমার লাগানো পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছেন। প্রচারণায় বের হলে নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছেন। এভাবে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।’

এ বিষয় জানতে চাইলে মজিবর রহমান মোল্লা বলেন, ‘দুই পক্ষ মুখোমুখি প্রচারণায় নামায় হাতাহাতি হয়েছে। এখানে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ মিথ্যা। আমার কোনো নেতা-কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেননি।’

বেলা একটার দিকে শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ কুদ্দুস ব্যাপারীর প্রচারণায়ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাবি, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মৃধা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বারবার হামলা চালাচ্ছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীর নেতা-কর্মীরা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে রিশাদুল ইসলাম তাঁদের চার-পাঁচজন কর্মী-সমর্থককে নিয়ে প্রচারণা নামেন। চরফতে বাহাদুরপুর এলাকায় তাঁরা পোস্টার লাগাতে গেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের হাতাহাতিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে রিশাদুলসহ তিনজন আহত হন। আহতদের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এম এ কুদ্দুস ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ছেলেকে মারধর করেছে নৌকার লোকজন। পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো ভূমিকা আমাদের চোখে পড়েনি। অভিযোগ দিলেও তারা নৌকার প্রার্থীর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

সিরাজুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা নির্বাচনে হার জেনে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আশফাক বলেন, ‘দুই ইউপিতে প্রচারণা চালানো সময় দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো কিছু হয়নি। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে শিকারমঙ্গল ও লক্ষ্মীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন