গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় একটি চারতলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পর ভবনটির পেছনের অংশের ১৬টি ফ্ল্যাটের লোকজন গতকাল মঙ্গলবার মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
ভবনটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলী দিয়ে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে সফিপুর বাজারের পশ্চিমে ডোবার পাশে ‘আসারনি’ নামের একটি চারতলা ভবন রয়েছে। বিশাল ভবনে ছোট ছোট ৩২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটির মালিক সফিপুর বাজারের সার ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল আজিজও পরিবার নিয়ে ওই ভবনে বাস করেন। গত সোমবার রাতে হঠাৎ করে ভবনের পেছনের অংশের নিচতলার দুটি ফ্ল্যাটে ফাটল দেখা যায়। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাটের ফ্লোর দেবে গিয়ে পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। ভবনটির পশ্চিম পাশে ডোবা থাকায় সেখানকার সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে। রাতেই ফাটলের খবর সবগুলো ফ্ল্যাটে পৌঁছে যায়। আতঙ্কিত হয়ে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা বাসা ছেড়ে বেরিয়ে যান। কেউ কেউ সারা রাত বাইরে থাকেন।
খবর পেয়ে গতকাল সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুর রহমান ও কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা বুয়েটের প্রকৌশলীকে দিয়ে ভবনটি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। তাঁদের পরীক্ষা ও প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির পেছনের অংশ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তাঁরা। ভবনের পেছনের অংশে বসবাসরত ১৬টি পরিবারকে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে পরে ভবনের মালিককে একটি চিঠি দেওয়া হয়।
ভবনটির মালিক আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৌশলী দিয়ে মাটি পরীক্ষা ও ভবনের নকশা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের পাশে একটি ডোবা থাকায় ভবনটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন প্রকৌশলী দিয়ে পরীক্ষার পর তাদের সিদ্ধান্ত মতোই কাজ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন