গাজীপুরের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে উদ্ভূত পরিস্থিতি কিশোরদেরই সৃষ্টি এবং এ পরিস্থিতি তৈরিতে কারা নেতৃত্ব দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম। গতকাল রোববার বিকেলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সচিব এ কথা বলেন।
গত মঙ্গলবার রাতে ওই কেন্দ্রের ২০ জন কিশোর তাদের ওপর ‘কর্তৃপক্ষের নির্যাতন ও কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার’ প্রতিবাদে ব্লেডজাতীয় ধারালো কিছু দিয়ে নিজেদের দেহ ক্ষতবিক্ষত করে। পরের দিন প্রথম আলোয় ‘২০ কিশোরের ভয়ংকর প্রতিবাদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
খবর প্রকাশের দিনই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় কেন্দ্রটির সভাকক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই সমন্বয় সভা হয়।
সভা শেষে সচিব নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারি আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত কিশোরেরাই এখানে থাকে। এখানে মাদকাসক্ত কিশোরেরাও রয়েছে। অনেক কিশোরের পরিবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই কিশোরেরা ছোটবেলা থেকেই মাদকের সঙ্গে পরিচিত। তারা সহজে মাদক পেয়েছে, মাদক ব্যবহার করেছে। মাদকের কারণে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কিশোরের পরিবার ছেলেদের দেখতে এসে কৌশলে ভেতরে মাদক পাচার করছে।
সচিব আরও বলেন, টঙ্গীর কিশোর কেন্দ্রে ২০০ নিবাসীর থাকার ব্যবস্থা থাকলেও এখানে ৩০৮ জন রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের একটু গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। এ সুযোগে তারা একে অপরের সঙ্গে কুপরামর্শ করে কেন্দ্রে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) আইয়ুব হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক জুলফিকার হায়দার, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উপদেষ্টা ও দায়রা জজ শামীম আহামেদ, টঙ্গী মডেল থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফারুক হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন