বিজ্ঞাপন

এর আগে রমনা থানা–পুলিশ এই মামলার তদন্ত শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল। তাতে কার্টুনিস্ট কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল ভূঁইয়াকে আসামি করা হয় এবং আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী মুশতাক আহমেদ মারা যান। এ কারণে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জার্মানিপ্রবাসী ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এজাহারভুক্ত আরেক আসামি ফিলিপ শুমাখার প্রকৃত পূর্ণাঙ্গ নাম ও ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁকে অভিযোগপত্রে

রাখা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কিশোর, মিনহাজ ও দিদারুল জামিনে মুক্ত আছেন। বাকিদের পলাতক দেখানো হয়েছে।

প্রথম অভিযোগপত্রে আসামি তিনজন। কিশোর, মুশতাক ও দিদারুল। দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হন মিনহাজ মান্নান, তাসনিম খলিল, সামিউল, আশিক ইমরান ও ওয়াহিদুন নবী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে সামিউল ইসলাম ওরফে সামি কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরায় সম্প্রতি বাংলাদেশ–সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনের পর আলোচনায় আসেন। এরপর তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, দুই-তিন দিন আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আসামিরা সাইবারজগতে অনেক দিন ধরে গুজব ছড়িয়ে আসছিলেন।

গত বছরের মে মাসে কিশোর, মোশতাক, দিদারুল ও মিনহাজ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাঁরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব। তাতে ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে’ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্তরা ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ পেজ ছাড়াও ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি, করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ ফেসবুক পেজের অন্যতম এডিটর ছিলেন ‘আমি কিশোর’। গত বছরের ৫ মে কার্টুনিস্ট কিশোরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন সিডি জব্দ করা হয়। পরে তাঁর ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটিং লিস্ট পরীক্ষা করে তাসনিম খলিল, সামিউলসহ কয়েকজনের নাম পায় পুলিশ। প্রথম তদন্তে সামিউলের সঠিক নাম-ঠিকানা বের করতে পারেনি পুলিশ। তাই সামিউলসহ আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে রমনা থানার পুলিশ কার্টুনিস্ট কিশোর, মুশতাক আহমেদ ও দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আদালত সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগকে দায়িত্ব দেন।

কিশোরের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের দেওয়া প্রথমবারের অভিযোগপত্রে কার্টুনিস্ট কিশোরসহ যে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, নতুন অভিযোগপত্রে একই ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কিছু নেই। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনোবারই অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাই দুবারের অভিযোগপত্রই অবৈধ।

প্রসঙ্গত, কার্টুনিস্ট কিশোর গত ৪ মার্চ জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে বাসা থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং রমনা থানায় হাজির করে মামলা দেওয়া হয়। এ অভিযোগে তিনি ১০ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন