কুড়িগ্রামে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ১৪৩ জন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে এক শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা না থাকায় শিশুদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে শিশু ও তাদের স্বজনেরা কষ্ট পাচ্ছেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৪৩ জন ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৩২ জন শিশু। গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় আলমগীর নামে নয় মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। সে পানিশূন্যতায় ভুগছিল। সে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পণ্ডিতপাড়ার খবির উদ্দিনের ছেলে। এসব রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে মায়েদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের গরম কাপড় পরাতে হবে।
গতকাল সকালে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ছয়টি শয্যা থাকলেও ভর্তি হয়েছে ১৫টি শিশু। শয্যা কম থাকায় অনেককে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আলমগীর মারা যায়।
সদর হাসপাতালের দোতলায় শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা ১১টি। কিন্তু ভর্তি হয়েছে ২২টি শিশু। এদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় পাঁচটি এবং অপুষ্টিজনিত রোগে ১৭টি শিশু আক্রান্ত। শয্যাসংকটের কারণে অনেকে শিশুকে নিয়ে মা-বাবা শীতের মধ্যে বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে। ভেতরে একই অবস্থা। এ ওয়ার্ডের সেবিকা শেফালী বেগম জানান, শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জয়নাল আবেদিন জানান, উত্তরাঞ্চলে শীত বেশি। তাই এ সময় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন