কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার যশপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৩৫) হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলার চতুর্থ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা আনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অতিরিক্ত দায়রা জজ চমন চৌধুরী ওই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় থাকা আসামিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ওই মামলার রায় প্রদান করা হলো।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন যশপুর গ্রামের মো. আবু তাহের, মো. আবদুস ছালাম ও জহিরুল ইসলাম জহির।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন যশপুর গ্রামের মো. বাহার (৩১), একই গ্রামের মো. মিজানুর রহমান, শিমপুর গ্রামের মো. আবদুল মান্নান ও মো. সাহেব আলী এবং কুমিল্লা নগরের ভাটপাড়া এলাকার মো. আরিফুজ্জামান। তাঁদের মধ্যে আবদুল মান্নান, সাহেব আলী ও মিজানুর রহমান পলাতক।

কুমিল্লার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ২০০০ সালের ১ অক্টোবর রাত আনুমানিক একটা থেকে দেড়টার মধ্যে যশপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাত দল তোফাজ্জল হোসেনের ঘরে ঢুকে প্রথমে তাঁকে বেঁধে তাঁর স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা তোফাজ্জলকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এরপর মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই মো. হারুনুর রশিদ ২০০০ সালের ২ অক্টোবর কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশ ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। বাদীপক্ষÿওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে কুমিল্লার সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক সিরাজুল হক মামলাটি তদন্ত করেন। ২০০২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ যশপুর গ্রামের আবদুস ছালামকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর স্বীকারোক্তি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়। এ মামলায় পুলিশ ১৮ জনের সাক্ষ্য নেয়।

আসামিপ‌ক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন