কুমিল্লার দক্ষিণ মডেল থানার আলোচিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। আজ রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর জায়গায় সমমর্যাদাসম্পন্ন কাউকে পদায়নের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

গতকাল শনিবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন নিয়ে তিন নির্বাচন কমিশনার সব প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেন। ওই সভায় কুসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু ওসি নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর আজ তাঁকে প্রত্যাহার করা হলো।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কী কারণে তাঁকে (ওসি নজরুল) প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা জানি না। প্রত্যাহারের চিঠি আমরা পেয়েছি। শিগগিরই তাঁর স্থলে আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনা মেনেই আমরা কাজ করব। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
কুমিল্লা টাউন হলে অনুষ্ঠিত শনিবারের মতবিনিময় সভায় তিন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, বেগম কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সভায় মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘ধনাইতরি এলাকার বিএনপি দলীয় কর্মী আবদুল কুদ্দুসকে জামিন থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার বিকেলে আমার প্রচারণা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসেন ওসি নজরুল। এখন নির্বাচন উপলক্ষে কাউকে ধরে এনে মামলায় জড়ানো হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।’
এ প্রসঙ্গে তখন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে নির্বাচনের সময় গ্রেপ্তার করা ঠিক না। এ নিয়ে কোনো খারাপ কথা শুনতে চাই না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন