কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের যশপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৩৫) হত্যা মামলায় তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লার চতুর্থ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ চমন চৌধুরী এ রায় দেন।
এ ছাড়া নেত্রকোনায় স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে (৩৬) হত্যার দায়ে স্বামী আবদুস ছালামকে (৪০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গতকাল ওই রায় দেন।
কুমিল্লায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তিন ব্যক্তি হলেন যশপুর গ্রামের মো. আবু তাহের (৫০), মো. আবদুস ছালাম (৩০) ও জহিরুল ইসলাম (৪২)। যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন যশপুর গ্রামের মো. বাহার (৩১), মো. মিজানুর রহমান, শিমপুর গ্রামের মো. আবদুল মান্নান ও মো. সাহেব আলী এবং কুমিল্লা নগরের ভাটপাড়া এলাকার মো. আরিফুজ্জামান (৩৫)। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মান্নান, সাহেব আলী ও মিজানুর পলাতক আছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, ২০০০ সালের ১ অক্টোবর রাতে যশপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল ডাকাত ঢুকে তাঁকে বেঁধে তাঁর স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা ছুরিকাঘাত করে তোফাজ্জলকে হত্যা করে। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতেরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই মো. হারুনুর রশিদ ২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশ ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক সিরাজুল হক মামলাটি তদন্ত করেন।
২০০২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যশপুর গ্রামের আবদুস ছালামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ছালাম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ও অন্য আসামিদের নাম বলেন। পরে সিরাজুল ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দেন। ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এই মামলায় পুলিশ ১৮ জনের সাক্ষ্য নেয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল ওই মামলার রায় দেওয়া হয়।
এদিকে নেত্রকোনায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ছালামকে গতকাল মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল হামিদ। ছালাম দুর্গাপুরের দুবরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে ২০০৭ সালের ১২ অক্টোবর ছালাম রামদা দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন