কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম মিয়া গত ২২ জানুয়ারি বদলি হয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেন। এর পর থেকে বোর্ডের শীর্ষ পদটি শূন্য। আরও ৯৯ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদও শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এসব পদে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোর্ডের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে বর্তমানে ২১০টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১০০টিই খালি। প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ২৪টি পদের মধ্যে সাতটি শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ১৯টি পদের মধ্যে ১৭টি, তৃতীয় শ্রেণীর ১০৬টির মধ্যে ৬৩টি এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৬১টি পদের ১৩টিই খালি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ না দেওয়ায় শূন্য পদগুলো পূরণ হচ্ছে না।
জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর সাতটি শূন্য পদের মধ্যে চেয়ারম্যান, সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট, উপসচিব, অডিট অফিসার ও প্রোগ্রামার এবং সহকারী প্রোগ্রামারের দুটি পদ রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর ১৯ পদের মধ্যে দুজন ডাটা এন্ট্রি কম্পিউটার অপারেটর ছাড়া অন্য সব পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সহকারী সচিব, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের তিনটি করে পদ, সহকারী কলেজ পরিদর্শকের একটি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সহকারী ক্রীড়া কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী মূল্যায়ন কর্মকর্তা, সহকারী হিসাবরক্ষণ অফিসার, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার ও একান্ত সচিবের একটি করে পদ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীর ৬৩ পদের মধ্যে অফিস সহকারীর ৩৪টি পদের মধ্যে ২৬টি, হিসাব সহকারীর একটি এবং সনদ লেখকের চারটিই খালি। চতুর্থ শ্রেণীর ১৩টি পদের মধ্যে দারোয়ান ও নৈশপ্রহরীর সাতটি খালি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছরের ২৯ মে মো. আবুল কাসেম মিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেন। ২২ জানুয়ারি তিনি বদলি হয়ে যান। সচিব মো. অলিউর রহমান ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর যোগদান করেন। তিনিও অবসরে যাচ্ছেন ১৩ মার্চ। শীর্ষ দুই পদে যোগদানের জন্য ইতিমধ্যে পদপ্রত্যাশীরা মন্ত্রী ও সাংসদদের কাছে তদবির করছেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক বলেন, বছর বছর কর্মচারীরা অবসরে গেলে পদগুলো শূন্য হয়। কিন্তু মামলার কারণে ২২ বছর ধরে বোর্ডে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সচিব মো. অলিউর রহমান বলেন, জনবলসংকটের কারণে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কিছু লোককে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন